পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পামেলা চট্টোপাধ্যায়

পুরসভার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন পামেলা চট্টোপাধ্যায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও পুরপ্রশাসনের অন্দরে রদবদলের আবহের মধ্যেই এবার কাউন্সিলর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বর্ধমান পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর পামেলা চট্টোপাধ্যায়। সম্প্রতি পুরসভার চেয়ারম্যান এবং পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসকের কাছে তিনি নিজের লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কোনো রাজনৈতিক চাপ বা ক্ষোভ নয়, মূলত সময়ের অভাব এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

পেশাগত ব্যস্ততা ও বাসস্থান বদলই মূল কারণ

পেশায় স্কুল শিক্ষিকা পামেলাদেবী তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের কারণ খোলসা করতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, তিনি কোনোদিনই সরাসরি বা সক্রিয় রাজনীতির আঙিনায় ছিলেন না। নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের নানাবিধ ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমি নিজে একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। একই সঙ্গে সম্প্রতি আমি পুরোনো বাড়িও বদল করেছি। ফলে নতুন পরিবেশ, স্কুলের দায়িত্ব এবং পুরসভার কাজ— সব দিক একা হাতে সামলে উঠতে পারছিলাম না। ওয়ার্ডের কাজের জন্য যেভাবে সময় দেওয়া প্রয়োজন, তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। এমনকি শারীরিক ভাবেও আমি আর পেরে উঠছিলাম না।”

পদত্যাগের সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর যখন বিভিন্ন পুরসভায় প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে জোর জল্পনা চলছে, তখন বর্ধমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরসভার একজন কাউন্সিলরের পদত্যাগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পামেলাদেবী ব্যক্তিগত কারণ দর্শালেও, তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর ফলে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক পরিষেবা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। উপ-নির্বাচন বা নতুন কোনো অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার মাধ্যমে এই শূন্যপদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ থমকে যেতে পারে বলে মনে করছেন পুরসভার আধিকারিকেরা। জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই তাঁর এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *