‘এদেশে থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতে হবে’ বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
.jpg.webp?w=1200&resize=1200,800&ssl=1)
নিজস্ব প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে এক বড়সড় ও তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার তারকেশ্বরের এক জনসভা থেকে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত বিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই বিষয়ে নিজের অনড় অবস্থান প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন।
‘এদেশে থাকতে হলে বন্দে মাতরম বলতে হবে’
তারকেশ্বরের সভা থেকে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এই দেশে থাকতে হলে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে হবে। এদেশে থাকতে হলে ‘জনগণমন অধিনায়ক জয় হে’ বলতে হবে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, ভারতের মাটিতে বসবাস করতে হলে দেশের জাতীয় সংগীত, জাতীয় গীত এবং জাতীয় দিবসগুলিকে সম্মান জানানো প্রত্যেক নাগরিকের প্রাথমিক কর্তব্য।
২৬ জানুয়ারি ও ১৫ আগস্ট-কে সম্মানের নির্দেশ
স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি দেশের দুটি প্রধান জাতীয় দিবস উদযাপনের ওপরেও কড়া নির্দেশিকা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এদেশে থাকতে হলে ‘২৬ জানুয়ারি’ (প্রজাতন্ত্র দিবস) এবং ‘১৫ অগাস্ট’ (স্বাধীনতা দিবস)-কে যথাযথভাবে সম্মান করতে হবে এবং উদযাপন করতে হবে।” শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এটি কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটিই ভারতের আসল সংস্কৃতি এবং সনাতনী ঐতিহ্য।
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় গীত বাধ্যতামূলক করার এই ঘোষণা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিশেষ করে সংখ্যালঘু ও বাম-কংগ্রেস শিবির মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কীভাবে দেখে, এখন সেটাই দেখার। তবে জুনের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল যে, নতুন জমানায় রাজ্যের শিক্ষানীতি ও সংস্কৃতিতে জাতীয়তাবাদের ছোঁয়া আরও জোরালো হতে চলেছে।