অমানবিকতা! ১০ মাস শৌচাগারে বন্দি গৃহবধূ, জোটে শুধু কাঁচা চাল

১০ মাস শৌচাগারে বন্দি গৃহবধূ, চলত পৈশাচিক নির্যাতন!
দেরাদুনের সেলাকুই এলাকায় এক গৃহবধূকে দীর্ঘ ১০ মাস শৌচাগারে আটকে রেখে অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর পাশাপাশি শ্বশুর-শাশুড়িও এই অমানবিক অত্যাচারে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অমানবিক বঞ্চনা ও নির্যাতনের বিভীষিকা
ভুক্তভোগী মহিলার বাবার অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর নেমে আসে অমানবিক নিপীড়ন। গত বছর জুলাই মাস থেকে তাঁকে একটি ছোট ঘর ও শৌচাগারে বন্দি করে রাখা হয়। খাবারের নামে তাঁকে কেবল কাঁচা চাল, পেঁয়াজ ও লঙ্কা দেওয়া হতো। শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, তাঁর গোপনাঙ্গেও লাঠি ও বোতল দিয়ে আঘাত করা হতো বলে দাবি করেছে বাপের বাড়ির লোকজন। দীর্ঘ সময় পরিবারের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখায় মেয়েটি বর্তমানে গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন।
পুলিশি তদন্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্যাতিতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে সেলাকুই থানায় অভিযুক্ত স্বামী রাহুল খান্দুরি এবং তাঁর বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই নারকীয় ঘটনা সমাজ ব্যবস্থায় নারী নিরাপত্তা ও গার্হস্থ্য হিংসার ভয়াবহতাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা সমাজ থেকে নির্মূল করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।