কালীঘাটের বৈঠকে গরহাজির রথীন ঘোষ, মধ্যমগ্রামে ক্ষুব্ধ বিধায়কদের গোপন বৈঠক নিয়ে তুঙ্গে জল্পনা!

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন এবার এক নতুন মোড় নিল। দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের ভেতরে চলা সুপ্ত অসন্তোষ এবার প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে। রবিবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালীঘাটের বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ। শুধু তাই নয়, একই দিনে তাঁর মধ্যমগ্রামের বাসভবনে দলেরই কয়েকজন ‘বিদ্রোহী’ বিধায়ককে নিয়ে একটি সমান্তরাল বৈঠক হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়েছে। দলীয় নেত্রীর কর্মসূচি এড়িয়ে এই ধরনের বৈঠক শাসক দলের অন্দরে বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নেতৃত্বের সমান্তরালে নতুন সমীকরণ
আসামর্থিত সূত্রের দাবি, রবিবার রথীন ঘোষের মধ্যমগ্রামের বাড়িতে মোট ৯ জন তৃণমূল বিধায়ক একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই বৈঠকে দলের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাও উপস্থিত ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদিও সেখানে ঠিক কতজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন বা তাঁদের আলোচনার মূল এজেন্ডা কী ছিল, তা এখনও স্পষ্টভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে কালীঘাটের বৈঠক এড়িয়ে এবং পরবর্তীতে মঙ্গলবার কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতেও রথীন ঘোষের অনুপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে সম্ভাব্য প্রভাব
অভিজ্ঞ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের প্রতি বিধায়কদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং টিকিট বণ্টন বা সাংগঠনিক রদবদল নিয়ে অসন্তোষ। একদিকে রথীন ঘোষ বিষয়টিকে স্রেফ ‘শারীরিক খোঁজখবর’ নেওয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎকার বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় রথীন ঘোষের বাড়ি যাওয়ার কথা স্পষ্ট স্বীকার করে নিয়েছেন। নেতাদের বক্তব্যের এই বৈপরীত্য এবং দলছুট বা বহিষ্কৃত নেতাদের সাথে বিধায়কদের এই নৈকট্য শাসক দলের জন্য অস্বস্তিকর। যদি এই অসন্তোষ দ্রুত প্রশমিত না করা যায়, তবে আগামী দিনে দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও তীব্র হতে পারে এবং বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে দলীয় সংহতি বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।