রেডিও মেকানিক থেকে প্রাসাদের মালিক, কালনার প্রাক্তন বিধায়কের রকেট গতির উত্থান ও পতন

এক সময় সাধারণ রেডিও-টিভি মেকানিক হিসেবে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন দেবপ্রসাদ বাগ ওরফে পল্টু। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় আসার পর থেকেই তাঁর প্রতিপত্তি বাড়তে থাকে রকেট গতিতে। কালনা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান থেকে চেয়ারম্যান এবং পরবর্তীতে বিধায়ক পদ পাওয়ার পর তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্যের অভাবনীয় বিস্তার ঘটে। সম্প্রতি কালনা থানার পুলিশের অভিযানে সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে তাঁর বিলাসবহুল প্রাসাদ থেকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই প্রাক্তন বিধায়ক।
রহস্যময় সাম্রাজ্য ও রাজকীয় জীবনযাত্রা
এলাকাবাসীর দাবি, বিধায়ক হওয়ার পর থেকেই দেবপ্রসাদের জীবনযাত্রায় আকাশছোঁয়া পরিবর্তন আসে। তৈরি হয় এক চোখধাঁধানো অট্টালিকা, যা সাধারণ মানুষের মনে প্রতিনিয়ত বিস্ময় ও ক্ষোভের জন্ম দিত। এই প্রাসাদের অন্দরে রয়েছে অত্যন্ত দামি আসবাবপত্র, আধুনিক সাজসজ্জা এবং এমনকি একটি গোপন আন্ডারগ্রাউন্ড বা ভূগর্ভস্থ ঘর। বাড়ির ছাদে ওয়াটার ফিল্টারের জলে স্নানের রাজকীয় ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। তাঁর এই বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ জমছিল, যা সম্প্রতি রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনসমক্ষে আসতে শুরু করে।
পতনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
দেবপ্রসাদের এই আকস্মিক পতনের মূল কারণ সরকারি সম্পত্তি ও ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষের জন্য আসা সরকারি ত্রাণ ও খেলার সামগ্রী তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রাসাদে মজুত করে রাখতেন। সোমবার গভীর রাতে পুলিশ যখন তাঁর বাড়িতে হানা দেয়, তখন তিনি পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন এবং পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।
এই ঘটনার প্রভাব কালনা অঞ্চলের রাজনীতিতে বেশ সুদূরপ্রসারী হতে পারে। সম্প্রতি সরকারি ত্রাণ বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগে কালনা-২ ব্লকের রাজনৈতিক নেতা প্রণব রায়ও গ্রেপ্তার হয়েছেন, যাঁকে দেবপ্রসাদ নিজের ‘গুরু’ বলে মানতেন। এই গুরু-শিষ্যের যৌথ কারসাজির পর্দা ফাঁস হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। এই দুর্নীতির জাল কতদূর বিস্তৃত এবং এর পেছনে আর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব যুক্ত আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারের ফলে এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় বদল আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।