ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলায় গ্রেফতার তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর!

ভোট-পরবর্তী হিংসার পুরনো মামলায় গ্রেফতার তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলর!

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসার আঁচ এসে পড়ল কলকাতার শাসকদলে। ভোট-পরবর্তী হিংসার দুটি পৃথক মামলায় কলকাতা পুরসভার ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সচিন কুমার সিংকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার বেলেঘাটা রোডের নিজস্ব বাসভবন থেকে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। তাঁর বিরুদ্ধে বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট, হেনস্থা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। শাসকদলের এই প্রভাবশালী কাউন্সিলরের গ্রেফতারির ঘটনায় কলকাতার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

জোড়া অভিযোগ ও হিংসার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিলর সচিন কুমার সিংয়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩-এর একাধিক ধারায় নারকেলডাঙা থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথম মামলাটি দায়ের করেন বেলেঘাটা রোডের বাসিন্দা আদর্শ পাণ্ডে। তাঁর অভিযোগ, ২০২১ সালের ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ঠিক পরপরই সচিন সিং ও তাঁর সঙ্গীরা আদর্শবাবুর বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। এই মামলায় সচিন ছাড়াও মুকেশ যাদব, ওমপ্রকাশ ভাস্করসহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে।

অন্য দিকে, শিবতলা লেনের বাসিন্দা চন্দ্রপ্রকাশ সিংয়ের দায়ের করা দ্বিতীয় মামলাটিতেও নাম রয়েছে এই তৃণমূল কাউন্সিলরের। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, ভোট মিটতেই সচিন সিং ও তাঁর অনুগামীরা বেআইনি জমায়েত করে চন্দ্রপ্রকাশবাবুর বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। এরপর সেখানে থাকা লোকজনকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করার পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করা হয়।

তদন্তের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘদিন আগের ঘটনা হলেও সম্প্রতি এই দুটি মামলার প্রেক্ষিতে সক্রিয়তা দেখায় পুলিশ। গ্রেফতারের পর সচিন সিংকে নারকেলডাঙা থানায় নিয়ে গিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এফআইআরে নাম থাকা তাঁর বাকি সহযোগীদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। ধৃত কাউন্সিলরকে দ্রুত আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার মামলায় শাসকদলের কোনো বর্তমান কাউন্সিলরের গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ঘটনা কলকাতা পুরসভার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে কিছুটা ব্যাকফুটে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে, পুরনো হিংসার মামলাগুলোতে পুলিশের এই আকস্মিক অতি-সক্রিয়তা শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর মনোভাবের বার্তা দিচ্ছে, যা আগামী দিনে অন্যান্য বকেয়া মামলাগুলোর তদন্তেও গতি আনতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *