প্রেমের খোঁজে জঙ্গল চষেছে যে বাঘিনি, অবশেষে মা হলো জ়িনাত!
প্রেমের খোঁজে জঙ্গলমহল জয় করে অবশেষে মা হলেন বাঘিনী জিনাত!
ঝাড়খণ্ড ও বাংলার জঙ্গলমহলের সীমানা ছাড়িয়ে দীর্ঘ সময় পথ চলায় সঙ্গীহীন থাকা বাঘিনী জিনাত অবশেষে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন। ওডিশার সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভের ঘন অরণ্যে বর্তমানে নিজের চারটি শাবককে মুখে করে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে এই বাঘিনীকে। ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়া এই ছবি প্রকাশের পর থেকেই বন দপ্তরের অন্দরে খুশির জোয়ার বইছে।
সিমলিপালের বনজঙ্গলে নতুন প্রাণের আশা
সিমলিপাল টাইগার রিজার্ভের বনাধিকারিকদের মতে, জিনাতের শাবকদের বয়স তিন থেকে চার সপ্তাহের মতো হবে। জিনাতের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আপাতত বনকর্মীরা তাকে কোনোভাবেই বিরক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মহারাষ্ট্রের তাডোবা-আন্ধেরি থেকে সিমলিপালে নিয়ে আসা এই বাঘিনীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ অবশেষে দূর হয়েছে। বিশেষ করে, ঝাড়খণ্ড ও বাংলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় সে একবারও সঙ্গী খুঁজে না পাওয়ায় তার বংশবৃদ্ধি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
জিনতাত্ত্বিক বৈচিত্র্য ও সাফল্যের ইঙ্গিত
বাঘ বিশেষজ্ঞদের মতে, জিনাতের মা হওয়া সিমলিপালের বাঘের বংশবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। সিমলিপালেই বেড়ে ওঠা কোনো পুরুষ বাঘের সঙ্গে তার মিলন হয়েছে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এর ফলে তাডোবার বাঘিনীর জিনগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সিমলিপালের নিজস্ব জিনগত বৈশিষ্ট্য মিশে এই চারটি শাবকের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘদিনের অস্থিরতার পর জিনাতের এই নতুন ভূমিকা ভবিষ্যতে সিমলিপালের বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড়সড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন বন কর্মকর্তারা।