সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে কেন পুরুষদেরও টিকা নেওয়া জরুরি?
সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার রুখতে পুরুষরাও সমান অংশীদার!
জরায়ুমুখ ক্যান্সার বা সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারকে বরাবরই কেবল নারীদের স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। এই মারণব্যাধির নেপথ্যে থাকা ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’ বা এইচপিভি (HPV) মূলত যৌনসংসর্গের মাধ্যমেই ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদের সচেতনতা এবং দায়বদ্ধতা এই রোগ প্রতিরোধের অন্যতম চাবিকাঠি। পুরুষরা এই ভাইরাসের বাহক বা ভেক্টর হিসেবে কাজ করার কারণে, এই ক্যান্সার নির্মূলে তাদের অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
পুরুষদের জন্য এইচপিভি টিকার গুরুত্ব
চিকিৎসকদের মতে, এইচপিভি ভ্যাকসিন কেবল মেয়েদের জন্য নয়, ছেলেদের জন্যও সমানভাবে জরুরি। পুরুষদের যৌনাঙ্গে এই ভাইরাসের উপস্থিতি থাকলেও সাধারণত কোনো বাহ্যিক লক্ষণ প্রকাশ পায় না, ফলে তারা অজান্তেই এটি ছড়াতে থাকেন। সঠিক বয়সে, বিশেষ করে ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ছেলেদের এই টিকা দিলে তাদের শরীর ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকে। এটি কেবল পুরুষদের ওরাল বা গলার ক্যান্সারের ঝুঁকিই কমায় না, বরং তাদের জীবনসঙ্গীর শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের পথও বন্ধ করে দেয়। বিদেশে স্কুল পর্যায় থেকেই ছেলেদের এই ভ্যাকসিন দেওয়ার প্রচলন থাকলেও, আমাদের দেশে এ বিষয়ে সচেতনতার ব্যাপক অভাব রয়েছে। তবে বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ছেলেদের জন্য এই টিকার ব্যবস্থা রয়েছে, যা গ্রহণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
প্রতিরোধে পুরুষদের করণীয় ও দায়িত্ব
সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের মতো একটি ভয়াবহ ব্যাধি মোকাবিলায় একজন সচেতন পুরুষ নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে পরিবার ও সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন:
- টিকা গ্রহণ: কিশোর বয়সেই নিজেকে এইচপিভি টিকার আওতায় নিয়ে আসা, যাতে ক্রস কন্টামিনেশনের ঝুঁকি কমে।
- সঙ্গীর সচেতনতা: স্ত্রী, কন্যা বা বোনের ক্ষেত্রে এইচপিভি টিকাকরণ নিশ্চিত করতে উৎসাহিত করা এবং তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অভিভাবকের ভূমিকা পালন করা।
- নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: স্ত্রী বা যৌনসঙ্গীর নিয়মিত ‘প্যাপ স্মিয়ার’ (Pap Smear) বা এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা, কারণ প্রাথমিক অবস্থায় রোগ ধরা পড়লে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।
- নিরাপদ যৌন অভ্যাস: একাধিক যৌনসঙ্গী এড়িয়ে চলা এবং যৌন সংসর্গের সময় সুরক্ষাকবচ ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা, যা সরাসরি ভাইরাস সংক্রমণের হার কমিয়ে দেয়।
পরিশেষে, সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার প্রতিরোধে ব্যক্তিগত উদ্যোগের চেয়ে যৌথ সচেতনতাই বেশি কার্যকর। পুরুষরা যদি এই লড়াইয়ে সমান অংশীদার হন, তবেই সমাজ থেকে এই মারণব্যাধিকে সমূলে উৎপাটন করা সম্ভব হবে।