মমতার ঘরেই এবার ভাঙনের সুর, শুভেন্দুর দরবারে যাওয়ার হুঁশিয়ারি ভাই বাবুনের!

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এবার খোদ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারেই বড়সড় ফাটলের ইঙ্গিত। তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার ‘বেসুরো’ হওয়ার তালিকায় এবার যুক্ত হলো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বাবুনের নাম। ক্রীড়া ক্ষেত্রে ক্রমাগত কোণঠাসা হওয়ার ক্ষোভ উগরে দিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি, যা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ক্রীড়াক্ষেত্রে বঞ্চনা ও অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
দীর্ঘদিন ধরে বাংলার একাধিক ক্রীড়া সংগঠনের প্রশাসনিক পদে যুক্ত ছিলেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি বেঙ্গল বক্সিং অ্যাসোসিয়েশনের সচিব এবং হ্যান্ডবল সংস্থার প্রেসিডেন্টের পদ থেকে তাঁকে ইস্তফা দিতে হয়েছে। এরপরই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগেন তিনি। বাবুনের অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাস ও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোণঠাসা করেছে। ২০২৪ সালে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং হকি বেঙ্গল থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনেও অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, ১৯৮১ সাল থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও ২০১৩ সালের পর থেকে তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয়নি, বরং ক্রীড়া প্রশাসনে তাঁর জায়গায় স্বরূপ বিশ্বাসকে নিয়ে আসা হয়েছে।
দিদির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ও বিজেপির তকমা
নিজের এই বঞ্চনার কথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো সত্ত্বেও কোনো লাভ হয়নি বলে দাবি করেছেন বাবুন। তাঁর অভিযোগ, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত বিষয় অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো পদক্ষেপ করেননি। উল্টো দলের কিছু নেতা মমতাকে ভুল বুঝিয়েছেন, যার খেসারত দলকে দিতে হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে বাবুন বলেন, দল তাঁকে জোর করে ‘বিজেপি’ বানিয়ে দিয়েছিল। অতীতে মদন মিত্র বা সুভাষ চক্রবর্তীর মতো ক্রীড়ামন্ত্রীদের আমলে কাজ করলেও বর্তমান পরিস্থিতির মতো দুরাবস্থা কখনো তৈরি হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইঙ্গিত ও সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নের স্বার্থে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং নিশীথ প্রামাণিকের সঙ্গে দেখা করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায়। আগের সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলার খেলাধুলার এই দশা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের এই শোচনীয় পরিণামের আবহে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইয়ের এই ক্ষোভ এবং বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও পারিবারিক একতাকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।