তৃণমূলের অন্দরে মহানাট্য! মমতাকে ‘পরামর্শদাতা’ মেনে অভিষেকের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াল ঋতব্রতর নতুন দল

পশ্চিমবঙ্গের শাসকদলের অন্দরের সমীকরণ এবার এক সম্পূর্ণ নতুন মোড় নিল। তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বে ভাঙন এবং ক্ষমতার অলিন্দে টানাপোড়েনের গুঞ্জনকে সত্যি করে বিধানসভায় আত্মপ্রকাশ করল ‘নতুন তৃণমূল’। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়। নবগঠিত এই গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই তারা তাদের প্রধান পথপ্রদর্শক ও পরামর্শদাতা হিসেবে দেখতে চান। একই সঙ্গে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমস্ত রকম সম্পর্ক ছিন্ন করার এক নজিরবিহীন ঘোষণাও করা হয়েছে এই নতুন মঞ্চের পক্ষ থেকে।
মমতায় আস্থা, অভিষেকে স্পষ্ট ‘না’
বিধানসভায় নতুন তৃণমূলের বিধায়করা তাঁদের বিরোধী দলনেতা নির্বাচন করার পর এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন। রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী আখিরুজ্জামান সাফ জানান, তাঁদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আছেন এবং তাঁরই পরামর্শ ও নির্দেশ মেনে তাঁরা বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চান।
এর পরপরই নবনির্বাচিত বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্দরের ফাটলটিকে আরও চওড়া করে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূর-দূরান্ত পর্যন্ত এই নতুন বিধানসভা বা তাঁদের এই গোষ্ঠীর কোনও সম্পর্ক নেই। রাজনীতির ময়দানে যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ও আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অন্দরে যে ‘ওল্ড গার্ড’ বনাম ‘ইয়ং ব্রিগেড’ বা মমতা পন্থী বনাম অভিষেক পন্থীদের লড়াই চলছিল, এটি তারই এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ঋতব্রত ও তাঁর অনুগামীরা আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেগ ও ভাবমূর্তিকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক বৈধতা ধরে রাখতে চাইছেন, অথচ একই সঙ্গে দলের সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে সরাসরি অস্বীকার করছেন।
এই নতুন মেরুকরণের ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে এবং সামগ্রিকভাবে রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটতে পারে। একদিকে যেমন শাসক শিবিরের ভোটব্যাঙ্কে এর একটা প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, ঠিক তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নতুন গোষ্ঠীর ‘পরামর্শদাতা’ হওয়ার আবেদন গ্রহণ করেন নাকি নিজের ভাইপোর নেতৃত্বাধীন মূল সংগঠনের পাশে দাঁড়ান—তা-ই এখন দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা যে ঘাসফুল শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।