কম খরচে আইনি বিয়ে, জেনে নিন কোর্ট ম্যারেজের আসল নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া

বর্তমানে বহু তরুণ-তরুণী সামাজিক রীতিনীতির জাঁকজমক এড়িয়ে আইনি বিয়ে বা কোর্ট ম্যারেজের দিকে ঝুঁকছেন। স্পষ্ট আইনি পদ্ধতি এবং দ্রুত সরকারি রেকর্ড তৈরি হওয়ার সুবিধার্থেই এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন অনেকে। তবে কোর্ট ম্যারেজ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে খরচের অঙ্ক ও নিয়মকানুন নিয়ে নানাবিধ ধোঁয়াশা রয়েছে। সঠিক তথ্য জানা থাকলে অত্যন্ত নামমাত্র খরচেই এই পুরো আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব।
বিয়ের আইনি প্রক্রিয়া ও ধর্মীয় প্রমাণপত্রের গুরুত্ব
আইনি বিয়ের জন্য কোনো মন্দির, মসজিদ বা ধর্মীয় স্থানে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা না থাকলেও, আদালতে বিয়ে নিবন্ধনের আগে সামাজিক বা ধর্মীয় বিয়ের একটি প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের মতে, দম্পতি সরাসরি আদালতে এলেও প্রথমে তাঁদের কোনো ধর্মীয় স্থানে বিয়ে সম্পন্ন করে সেই শংসাপত্র, ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হয়। বিশেষ করে মন্দির বা মসজিদের ক্ষেত্রে সেই প্রতিষ্ঠানের বিয়ের রেকর্ড বা নিবন্ধিত শংসাপত্র থাকা জরুরি। বিবাহটি অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হতে হবে। এরপর পাত্র-পাত্রীকে ম্যারেজ রেজিস্ট্রার বা ডেপুটি রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করতে হয়।
আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলী
কোর্ট ম্যারেজের ক্ষেত্রে একটি অন্যতম প্রধান শর্ত হলো, আবেদনের আগে বর বা কনের মধ্যে অন্তত যেকোনো একজনকে সংশ্লিষ্ট জেলায় টানা ৩০ দিন বসবাস করতে হবে। এরপর দম্পতি বিবাহ কর্মকর্তা বা এসডিএম অফিসে গিয়ে ‘বিবাহের বিজ্ঞপ্তি’ জমা দেবেন, যা অফিসের নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেওয়া হয়। এই বিজ্ঞপ্তির পর ৩০ দিনের মধ্যে যদি কোনো আইনি আপত্তি না আসে, তবে বর ও কনেকে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক সাক্ষীসহ বিবাহ কর্মকর্তার সামনে হাজির হতে হয়। সেখানে উভয় পক্ষ ও সাক্ষীদের স্বাক্ষরের পর বিবাহ কর্মকর্তা একটি আনুষ্ঠানিক ম্যারেজ সার্টিফিকেট প্রদান করেন, যা বিয়ের চূড়ান্ত আইনি প্রমাণ।
প্রকৃত খরচ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আদালতে বিয়ের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সরকারি ফি মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন ও ম্যারেজ সার্টিফিকেট জারির ফি ১০০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। এর সাথে বৈবাহিক অবস্থা, জন্ম তারিখ ও ঠিকানা যাচাইয়ের হলফনামা, স্ট্যাম্প পেপার এবং নোটারি ফি বাবদ ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে আইনজীবীর ফি ছাড়া সরকারি ও আনুষঙ্গিক খরচ প্রায় ২,০০০ টাকার মতো। তবে রাজ্যভেদে এই ফি সামান্য পরিবর্তিত হতে পারে এবং আইনজীবী নিয়োগ বা কাগজপত্র তৈরির ওপর নির্ভর করে মোট খরচ ২,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
এই সহজ ও সাশ্রয়ী আইনি ব্যবস্থার ফলে সমাজে একদিকে যেমন জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমছে, অন্যদিকে তেমনি নবদম্পতিরা দ্রুত আইনি সুরক্ষা ও সরকারি স্বীকৃতি পাচ্ছেন। সঠিক নিয়ম মেনে চললে কোনো রকম মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সাধারণ মানুষ সহজেই এই আইনি সুবিধা লাভ করতে পারবেন।