আর নয় সময়ের অপচয়, ২৬-এর বিশ্বকাপে আসছে একগুচ্ছ নিয়ম, বদলে যাবে ফুটবলের চেহারা

আর নয় সময়ের অপচয়, ২৬-এর বিশ্বকাপে আসছে একগুচ্ছ নিয়ম, বদলে যাবে ফুটবলের চেহারা

বিশ্ব ফুটবলের মেগা আসর বসতে চলেছে ২০২৬ সালে। তবে এবারের বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়ের জন্য নয়, ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় নিয়ম পরিবর্তনের সাক্ষী হতে চলেছে। বিশ্ব ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি (IFAB) ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ নতুন নিয়ম অনুমোদিত করেছে, যা ফুটবল মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূলত ম্যাচে সময় নষ্টের প্রবণতা বন্ধ করতে এবং প্রযুক্তিগত নির্ভুলতা বাড়াতে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

৪৮ দলের নতুন ফরম্যাট ও বাড়তি উত্তেজনা

এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবে মোট ৪৮টি দেশ, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। দলগুলিকে মোট ১২টি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি গ্রুপে থাকবে চারটি করে দল। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সরাসরি পরবর্তী পর্বে উঠবে। পাশাপাশি ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলও জায়গা পাবে নকআউট পর্বে। ফলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে দেখা যাবে ‘রাউন্ড অব ৩২’। নতুন ফরম্যাটের কারণে ম্যাচের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের ৬৪ ম্যাচের পরিবর্তে এবার ফুটবলপ্রেমীরা মোট ১০৪টি ম্যাচ দেখার সুযোগ পাবেন।

সময় নষ্ট রুখতে কড়া কাউন্টডাউন ও শাস্তি

ফুটবলে সময় নষ্ট করা দীর্ঘদিনের এক বড় বিতর্ক। সেই সমস্যার সমাধানে এবার কড়া নিয়ম চালু করা হয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন কোনও ফুটবলারকে বদলি করা হলে বোর্ড ওঠার পর মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে তাঁকে মাঠ ছাড়তে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাঠ না ছাড়লে পরিবর্ত হিসেবে নামা ফুটবলারকে বাড়তি এক মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, যার ফলে ওই সময় দলটিকে ১০ জন নিয়ে খেলতে হবে। থ্রো-ইন নেওয়ার জন্য খেলোয়াড়রা সর্বোচ্চ পাঁচ সেকেন্ড সময় পাবেন, সময়সীমা অতিক্রম করলে বলের দখল চলে যাবে প্রতিপক্ষের কাছে। একইভাবে গোল-কিক নিতে পাঁচ সেকেন্ডের বেশি সময় নিলে প্রতিপক্ষ দল পেয়ে যাবে কর্নার কিক। এছাড়া বল হাতে নেওয়ার পর গোলরক্ষককে আট সেকেন্ডের মধ্যে বল ছাড়তে হবে।

চিকিৎসা ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ফুটবলার চোট পেয়ে মাঠে চিকিৎসা নিলে খেলা শুরু হওয়ার পর তাঁকে অন্তত এক মিনিট মাঠের বাইরে থাকতে হবে। তবে গোলরক্ষকের চোট, গোলরক্ষক ও অন্য খেলোয়াড়ের সংঘর্ষ কিংবা পেনাল্টি কিক সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। মাঠে রেফারি বা প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় হাত কিংবা জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে কথা বলার প্রবণতার বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছে। যদি কোনও খেলোয়াড় অবমাননাকর বা অসদুদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে কথা বলেন, তাহলে রেফারি তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে পারবেন। খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রতি ম্যাচের দুই অর্ধে বাধ্যতামূলক তিন মিনিটের ‘কুলিং ব্রেক’ থাকবে, যা ছাদযুক্ত বা ইনডোর ভেন্যুতেও কার্যকর হবে। একই সাথে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR)-এর ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে ভুল দ্বিতীয় হলুদ কার্ড এবং পেনাল্টি বক্সের ফাউল আরও নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এই নিয়মগুলোর কারণে মাঠে খেলার গতি যেমন বাড়বে, তেমনই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের সংখ্যাও অনেক কমে আসবে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *