‘ডন ৩’ বিতর্কে এবার আইনি চাল রণবীরের, এফডব্লিউআইসিই-কে নোটিস পাঠিয়ে মোক্ষম জবাব অভিনেতার
বলিউডের বহুল চর্চিত ছবি ‘ডন ৩’ থেকে অভিনেতা রণবীর সিংয়ের আকস্মিক সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার আদালত কক্ষের দিকে মোড় নিয়েছে। ফেডারেশন অব ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE)-এর পক্ষ থেকে অভিনেতার বিরুদ্ধে জারি করা ‘অসহযোগিতা নির্দেশ’-এর জবাবে এবার পাল্টা আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন রণবীর সিং। বিনোদন জগতের অন্দরের এই বিরোধ এখন আইনি লড়াইয়ে রূপ নেওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে।
ট্রেড ইউনিয়নের কড়া অবস্থান ও রণবীরের পাল্টা যুক্তি
কয়েক দিন আগে FWICE তাদের সদস্যদের নির্দেশ দেয়, তারা যেন রণবীর সিংয়ের সঙ্গে কোনও ধরনের পেশাগত সহযোগিতা না করেন। সংস্থার দাবি, ‘ডন ৩’ সংক্রান্ত চলমান বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য অভিনেতাকে একাধিকবার ডাকা হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হননি। ১০ দিনের ব্যবধানে তিনবার স্মারক পাঠানোর পরেও সাড়া না মেলায় এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অন্যদিকে, রণবীরের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই এই বিষয়ে ওই সংগঠনের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মে মাসে পাঠানো এক চিঠিতে অভিনেতার শিবির থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই বিরোধ নিষ্পত্তির আইনি ক্ষমতা FWICE-এর নেই। প্রতিনিধি স্তরে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সংগঠনটি রণবীরের ব্যক্তিগত উপস্থিতির দাবিতে অনড় থাকায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
সাংবিধানিক অধিকার বনাম সংগঠনের ক্ষমতা
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। বিনোদন আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারতের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে স্বাধীনভাবে বৈধ পেশা বেছে নেওয়ার এবং কাজ করার অধিকার দিয়েছে। কোনও সংগঠন যদি সেই অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আইনি প্রতিকার পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। যেহেতু FWICE মূলত একটি ট্রেড ইউনিয়ন এবং এর ক্ষমতা নিজস্ব সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তাই রণবীর সিং যদি ওই সংস্থার সদস্য না হন, তবে তাঁর ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর করা সম্ভব, তা নিয়ে বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে দুই পক্ষের কেউই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খোলেনি। তবে মুম্বইয়ে আয়োজিত একটি আসন্ন সাংবাদিক বৈঠকে সংগঠনটি তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করতে পারে বলে জানা গেছে। নির্মাতা ফারহান আখতার ও রণবীর সিংয়ের এই দ্বন্দ্বের জল আগামী দিনে কতদূর গড়ায় এবং এর ফলে বলিউডের কাজের সংস্কৃতি ও আইনি পরিকাঠামোয় কী ধরনের প্রভাব পড়ে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।