সীমান্তে দালালচক্রের থাবা এড়াতে ব্যর্থ নজরদারি, কুলতলিতে সাড়ে তিন বছর পর ধরা পড়ল ১৮ বাংলাদেশি!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক আটক হওয়ার ঘটনাটি সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নজরদারি ব্যবস্থার বড়সড় গলদকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে কুলতলি থানার গোদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই অনুপ্রবেশকারীদের আটক করে, যাদের মধ্যে ছয়জন শিশুও রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতেরা স্বীকার করেছে যে, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সীমান্তের কাঁটাতার পেরিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অভ্যন্তরে বসবাস করার পরও এতদিন কেন তারা প্রশাসনের নজরে আসেনি, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অনুপ্রবেশের কারণ ও দীর্ঘদিনের আস্তানা
আটক হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট এবং কর্মসংস্থানের অভাবের কারণেই মূলত তারা ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। সীমান্ত পার হতে তারা স্থানীয় দালালচক্রের সাহায্য নেয়, যা সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। ভারতে ঢোকার পর তারা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং কুলতলির স্থানীয় ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। গত তিন-সাড়ো তিন বছর ধরে তারা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এই এলাকায় বসবাস করছিল। সস্তা শ্রমের চাহিদা এবং স্থানীয় স্তরে সঠিক পরিচয় যাচাইয়ের অভাবই এই অনুপ্রবেশকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে। কুলতলির এই ঘটনাটি তারই ধারাবাহিক অংশ। এই ধরনের কঠোর অভিযানের ফলে সীমান্ত এলাকায় দালালচক্রের সক্রিয়তা কমবে এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের সমস্ত নথিপত্র এবং পরিচয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তাদের বিশেষ হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হবে এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে আইনি উপায়ে বাংলাদেশে ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।