সূর্য প্রতাপ খুনের পর রণক্ষেত্র গাজিয়াবাদে এবার ‘অপারেশন ক্লিন সুইপ’, নামল ড্রোন ও স্নাইপার!

সূর্য প্রতাপ খুনের পর রণক্ষেত্র গাজিয়াবাদে এবার ‘অপারেশন ক্লিন সুইপ’, নামল ড্রোন ও স্নাইপার!

১৭ বছর বয়সি কিশোর সূর্য প্রতাপ চৌহানের নৃশংস খুনের ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে। স্থানীয় জনগণের ক্ষোভ ও ফুঁসতে থাকা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবার নজিরবিহীন অ্যাকশনে নেমেছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। এলাকার অপরাধ চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গাজিয়াবাদ পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন যৌথভাবে শুরু করেছে এক বিশাল চিরুনি তল্লাশি অভিযান, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ক্লিন সুইপ’। মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিশাল পুলিশবাহিনী এলাকার দাগী অপরাধী, দুষ্কৃতী, বেআইনি জবরদখল এবং সরকারি স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার মতো একাধিক বেআইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

আকাশে ড্রোন ও মাটিতে স্নিফার ডগ

যে নির্দিষ্ট এলাকায় কিশোর সূর্য প্রতাপকে খুন করা হয়েছিল, সেই পুরো অঞ্চলটিকে বর্তমানে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। আকাশে ড্রোন ক্যামেরা, মাটিতে স্নিফার ডগ এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সাহায্যে প্রতি মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বহুতলের ছাদ থেকে শুরু করে সংকীর্ণ গলির ভেতরেও মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র পুলিশ। গাজিয়াবাদের পুলিশ কমিশনার রবীন্দ্র গৌড় জানিয়েছেন, ওই এলাকায় ১৩ জন এমন কুখ্যাত অপরাধীকে চিহ্নিত করা হয়েছে যারা বারবার বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সবার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বুলডোজারের নোটিস ও বেআইনি মাদ্রাসা সিল

অভিযানের অংশ হিসেবে গাজিয়াবাদের জেলাশাসক রবীন্দ্র কুমার মদদ জানিয়েছেন যে, চিহ্নিত অপরাধীদের পুরনো ও সাম্প্রতিক অপরাধের খতিয়ান খতিয়ে দেখে পুলিশ তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভেরিফিকেশন বা সত্যতা যাচাই করছে। তদন্তে যদি কোনো অপরাধীর বাড়ি সরকারি জমি দখল করে তৈরি হওয়ার প্রমাণ মেলে, তবে আইন অনুযায়ী সেখানে বুলডোজার চালানো হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই সূর্য প্রতাপ খুনের মূল অভিযুক্ত আসাদের বাড়ির বাইরে উচ্ছেদের নোটিস ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একই সাথে এই অভিযানে গাজিয়াবাদে তিনটি সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মাদ্রাসা বোর্ডের স্বীকৃতিহীন মাদ্রাসার সন্ধান পেয়েছে প্রশাসন। এর মধ্যে মঙ্গলবারই সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের অফিশিয়াল রেকর্ডে নাম না থাকা ‘মাদ্রাসা রহমানিয়া’ নামের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিল করে দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার গেটে বড় তালা ঝুলিয়ে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক উত্তর না মিললে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গাজিয়াবাদে স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে এবং সূর্য প্রতাপ খুনের ঘটনায় দ্রুত সুবিচার সুনিশ্চিত করতে এই বিশেষ অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *