মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের দামামা: মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলার দাবি, অস্বীকার সেন্টকমের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা! কুয়েত ও বাহরিনে ইরানের মিসাইল হামলার দাবি ঘিরে তীব্র সংঘাত
মঙ্গলবার রাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ল। ইরান দাবি করেছে যে, তারা কুয়েত ও বাহরিনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের এই দাবিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হলেও, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে দাবি করেছে আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের এই দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ এবং ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা আক্রমণে উত্তপ্ত কেশম দ্বীপ
ইরানের হামলার দাবির পরপরই আমেরিকা পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে কেশম দ্বীপে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্যমতে, ইরান বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়লেও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথবা মাঝপথেই ধ্বংস করা হয়েছে। কুয়েতের দিকে ধেয়ে আসা দুটি মিসাইল আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং বাহরিনের দিকে ছোঁড়া তিনটি মিসাইল ধ্বংস করেছে যৌথ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। এছাড়া আন্তর্জাতিক জলসীমায় সক্রিয় ইরানের তিনটি ড্রোনকেও মার্কিন বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
ইরানের হুঁশিয়ারি ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা
ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক বার্তার মাধ্যমে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। তাদের দাবি, মার্কিন আগ্রাসনের সমুচিত জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি এই সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। পারস্য উপসাগরে ক্রমবর্ধমান এই সামরিক উত্তেজনা কেবল আঞ্চলিক শান্তিকেই বিঘ্নিত করছে না, বরং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে ইরানের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পাল্টা জবাব বিশ্বকে ফের এক নতুন ও বড় যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে।