ম্যাট্রিমনি সাইটে দেড়কোটি টাকার ভুয়ো বরের ফাঁদ, ১৫ তরুণীকে বিয়ে করে শ্রীঘরে গুণধর

অনলাইন ম্যাট্রিমনি সাইটকে হাতিয়ার করে একের পর এক তরুণীকে বিয়ের জালে জড়ানোর এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস হল। নিজেকে দেড়কোটি টাকার বেতনের কর্পোরেট চাকুরে পরিচয় দিয়ে কমপক্ষে ১৫ জন তরুণীকে বিয়ে এবং তাঁদের থেকে লক্ষাধিক টাকা ও সোনা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে মতিউর রহমান নামের এক যুবককে। ধৃত যুবক কলকাতার বউবাজারের বাসিন্দা হলেও ম্যাট্রিমনি সাইটে নিজের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে এই জালিয়াতি চালাচ্ছিল।
মিথ্যে পরিচয় ও পাতা ফাঁদ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যাট্রিমনি সাইটে নিজেকে ‘মানিক রায়’ পরিচয় দিয়ে নৈহাটির এক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে মতিউর। নিজেকে উচ্চপদস্থ এবং বার্ষিক দেড়কোটি টাকা বেতনের চাকুরে বলে দাবি করে সে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধীরে ধীরে ওই তরুণীর বিশ্বাস অর্জন করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে। যুবকের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে ওই তরুণী নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং সোনার ব্রেসলেটসহ বিপুল পরিমাণ সামগ্রী তাঁর হাতে তুলে দেন।
সন্দেহ ও প্রতারণার পর্দাফাঁস
মতিউরের এই নিখুঁত প্রতারণার ছকে সামান্য একটি ভুলেই শেষরক্ষা হল না। সম্প্রতি সে তার মামার মৃত্যুর অজুহাত দেখিয়ে তরুণীর কাছ থেকে আবার টাকা চায়। টাকা পাঠানোর জন্য যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি সে দিয়েছিল, সেটিকে মুম্বইয়ের এক বাসিন্দার বলে দাবি করে মতিউর। কিন্তু তরুণী নিজস্ব স্তরে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারেন, অ্যাকাউন্টের মালিক আসলে বর্ধমানের বাসিন্দা। এই অসঙ্গতি দেখেই তরুণীর মনে গভীর সন্দেহ জাগে।
এরপরই ওই তরুণী মতিউরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখতে শুরু করেন এবং সেখানে একাধিক মহিলার সন্ধান পান। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে একে একে বেরিয়ে আসে আসল সত্য। জানা যায়, একই কায়দায় ওই মহিলাদের সঙ্গেও প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই যুবক। এমনকি এই উপায়ে সে ইতিমধ্যে কমপক্ষে ১৫ জন তরুণীকে বিয়েও করেছে। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পর নৈহাটির ওই তরুণী পুলিশের দ্বারস্থ হন এবং পুলিশি অভিযানে গ্রেপ্তার হয় অভিযুক্ত মতিউর রহমান।
ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনাটি বর্তমান সমাজে অনলাইন ম্যাট্রিমনি সাইটগুলির নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের সচেতনতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বৈবাহিক ওয়েবসাইটে ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন বা পরিচয়পত্রের সত্যতা যাচাই না করেই অন্ধবিশ্বাস করার প্রবণতাই অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। এই ঘটনার প্রভাবে ম্যাট্রিমনি সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন ধাক্কা খাবে, তেমনই বহু পরিবার আগামীদিনে অনলাইনে জীবনসঙ্গী খোঁজার ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক হতে বাধ্য হবে। আপাতত ধৃত মতিউরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই চক্রে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্য ভুক্তভোগীদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।