১৫ বছরের বিস্ময় বালকের সাফল্যের রসায়ন খুঁজতে অভিনব গবেষণা আইআইএম ইন্দোরের

ক্রিকেটবিশ্বে তিনি এখন নতুন সেনসেশন। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই আইপিএলে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে জিতে নিয়েছেন পাঁচটি ব্যক্তিগত খেতাবসহ মর্যাদাপূর্ণ অরেঞ্জ ক্যাপ। রাজস্থান রয়্যালসের এই তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীর অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ক্রিকেটপ্রেমীরা যখন মজেছেন, ঠিক তখনই তাঁর এই অতিমানবিক সাফল্যের রহস্য উদ্ঘাটনে নামছে দেশের অন্যতম শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) ইন্দোর। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো তরুণ ক্রিকেটারের ওপর এমন মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি গবেষণা হতে চলেছে, যা ‘বৈভব মডেল’ নামে পরিচিতি পাবে।
কী থাকছে এই বৈভব মডেলে?
আইআইএম ইন্দোরের ডিরেক্টর হিমাংশু রাই জানিয়েছেন, ঠিক কোন কোন নিয়ামকের কারণে মাঠের ভেতর বৈভব এমন বিস্ফোরক ব্যাটিং করতে পারেন, তা বিশদভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এই যৌথ গবেষণায় অংশ নেবেন মনোবিজ্ঞানী, ক্রীড়া বিশ্লেষক, ক্রীড়া বিজ্ঞান ও ফিটনেস বিশেষজ্ঞরা। মূলত বৈভবের অসামান্য মানসিক দৃঢ়তা, অনুশীলনের কঠোর পদ্ধতি, স্বভাব-আচরণ এবং তাঁর পেছনে থাকা পারিবারিক ত্যাগ ও কোচেদের সঠিক পরামর্শের মতো বিষয়গুলো এই গবেষণার মূল ভিত্তি। এত কম বয়সে কোটি কোটি টাকার উপার্জন ও আকাশচুম্বী খ্যাতির মাঝেও কীভাবে তিনি নিজেকে মাটির কাছাকাছি রেখেছেন, তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে।
হারিয়ে যাওয়া রুখতে নতুন রূপরেখা
বিশ্ব ক্রিকেটে বহু সময়েই দেখা গেছে, প্রবল সম্ভাবনা নিয়ে বহু তরুণ প্রতিভা আন্তর্জাতিক মঞ্চে এলেও সময়ের সাথে সাথে হারিয়ে যায়। প্রত্যাশার বিপুল চাপ সামলাতে না পারা কিংবা ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ব্যর্থতা তরুণদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। বৈভবের ক্ষেত্রে যাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এবং ভবিষ্যতে তাঁর মতো অন্য কোনো প্রতিভাও যেন অকালে ঝরে না পড়ে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা তৈরি করবে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গবেষণার ফলে শুধু বৈভবের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারই সুরক্ষিত হবে না, বরং আগামী দিনে দেশের উদীয়মান অ্যাথলেটদের মানসিক ও শারীরিক উৎকর্ষ সাধনে এই ‘বৈভব মডেল’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে কাজ করবে।