এখনও কি জীবিত মোজতবা খামেনেই, জল্পনার মাঝেই বড় দাবি আমেরিকার

ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেইয়ের অবস্থান ও বেঁচে থাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন চলছে। মার্কিন হামলায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে এমন জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আমেরিকার এক বিস্ফোরক দাবি এই বিতর্ককে নতুন রূপ দিল। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, মোজতবা খামেনেই কেবল জীবিতই নন, বরং পর্দার আড়ালে থেকে শান্তি আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকাও পালন করছেন। মার্কিন সেনেটের বিদেশ-সম্পর্কিত কমিটির সামনে এই তথ্য পেশ করে জানানো হয়েছে, সমস্ত যোগাযোগ লিখিতভাবে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হলেও, আলোচনার কোনো না কোনো পর্যায়ে তাঁর উপস্থিতি স্পষ্ট।
গোপন বাঙ্কার ও কড়া নিরাপত্তা
ইরানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের খবর অনুযায়ী, মোজতবা খামেনেই বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ এবং তাঁর শরীরে থাকা পূর্বের আঘাতের ক্ষতগুলো প্রায় সেরে উঠেছে। শত্রুপক্ষ ক্রমাগত তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও মূলত সুরক্ষার স্বার্থেই তাঁকে সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে। এমনকি ইরানের অনেক উচ্চপদস্থ আধিকারিকও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অবগত নন। পুনরায় হামলার আশঙ্কায় কড়া গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে এবং সঠিক সময়েই তিনি জনসমক্ষে আসবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
আমেরিকার এই দাবির পাশাপাশি ইরানের অন্দরেও তৈরি হয়েছে এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ। মোজতবা খামেনেই যখন আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তির পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, ঠিক তখনই ইরানের কট্টরপন্থী ও রক্ষণশীল গোষ্ঠী এর তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছে। রক্ষণশীল ধর্মগুরুদের একাংশ ইতিমধ্যেই পারিবারিক সম্পর্কের জেরে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের উত্তরাধিকার পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, যার সরাসরি নিশানায় রয়েছেন মোজতবা।
এই মতাদর্শগত দ্বন্দ্বের কারণে ইরানের একটি অংশ শান্তিপ্রক্রিয়াকে মেনে নিতে নারাজ এবং তারা যুদ্ধের পথেই হাঁটতে আগ্রহী। বিশ্লেষকদের মতে, আমেরিকা তথা পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে ইরান যদি কোনো ধরনের আপসের নীতি গ্রহণ করে, তবে দেশের অভ্যন্তরেই এক বড়সড় বিদ্রোহ বা গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।