সুরেন্দ্রনাথ কলেজে তৃণমূল নেতার বিলাসবহুল ‘ওয়ো’ নাকি মাসাজ পার্লার, নজিরবিহীন কেলেঙ্কারিতে তোলপাড় রাজ্য

কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পোড়া নোট উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল এক বিস্ফোরক তথ্য। কলেজের ভেতরেই তৃণমূল নেতার জন্য তৈরি বিলাসবহুল বেডরুমের হদিস মিলেছে, যা কার্যত কোনো নামী হোটেলের ‘ওয়ো’ রুম কিংবা মাসাজ পার্লারকেও হার মানায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে বিছানা, এসি, দামি তোষক-বালিশ এবং অ্যাটাচড বাথরুম সম্বলিত এই গোপন আস্তানার সন্ধান মেলায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই ঘর থেকে কন্ডোম, মদের বোতল এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় শিক্ষা মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
নজিরবিহীন বিলাসবহুল আস্তানা এবং চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
জানা গিয়েছে, কলেজের ছাদে ‘টেরেস ফেসিলিটি’র নাম করে দু’টি বিশেষ বেডরুমের উদ্বোধন করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেই ঘর দুটিকে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছিলেন কলেজের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা তথা পরিচালনা সমিতির সদস্য দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ আরও মারাত্মক, কলেজের কর্মচারীদের দিয়ে জোরপূর্বক ওই ঘরে দুই নেতাকে মাসাজ করানো হতো এবং ঘর দুটি ঘণ্টা হিসেবে ভাড়াও দেওয়া হতো। কলেজের ছাদে নিয়মিত মদের আসর বসত বলেও প্রমাণ মিলেছে। তবে অভিযুক্ত দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে একে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেছে। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এই ইস্যুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই রুগ্ন দশার কথা শীর্ষ নেতৃত্ব সব জানতেন। কলেজে দলের ছাত্রীকে ধর্ষণ বা হাসপাতালে চিকিৎসকের খুনের মতো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দিকে আঙুল তোলেন। এই ঘটনার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শাসক দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ঘটনার গভীরতা বিবেচনা করে আগামী দিনে এর প্রভাব রাজ্যের রাজনীতিতে আরও সুদূরপ্রসারী হতে পারে।