আইএসএল পরিচালনায় এবার ক্লাব-জোট, ফেডারেশনকে বছরে ১৫ কোটির লোভনীয় প্রস্তাব

আইএসএল পরিচালনায় এবার ক্লাব-জোট, ফেডারেশনকে বছরে ১৫ কোটির লোভনীয় প্রস্তাব

ভারতীয় ফুটবলে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় চলে এল। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) বাণিজ্যিক সত্ত্ব বা কমার্শিয়াল রাইটস নিয়ে ৪ জুন ফেডারেশন কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ক্লাব প্রতিনিধিদের। কিন্তু তার আগেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) ডেপুটি সেক্রেটারি সত্যনারায়ণকে চিঠি পাঠিয়ে যৌথভাবে এক বিরাট প্রস্তাব দিল আইএসএলের ক্লাবগুলি। আগামী দু’বছরের জন্য তারা নিজেরাই আইএসএল পরিচালনা করতে চায়। এর বিনিময়ে ফেডারেশনকে বছরে ১৫ কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা কমার্শিয়াল পার্টনার হতে চাওয়া বহুজাতিক সংস্থা ‘জিনিয়াস স্পোর্টস’-এর প্রস্তাবের চেয়ে অনেকটাই বেশি। এর ফলে ফেডারেশনের সঙ্গে জিনিয়াস স্পোর্টসের চুক্তি হওয়া এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

টাকার অঙ্কে বাজিমাত ও নতুন সমীকরণ

কলকাতায় অনুষ্ঠিত ফেডারেশনের স্পেশাল জেনারেল মিটিংয়ে জিনিয়াস স্পোর্টসের বিষয়টি নিয়ে আইনি জটিলতার কারণে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। কার্যনির্বাহী কমিটির পর জেনারেল বডিতে বিষয়টি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ক্লাবগুলির এই ‘পত্রবোমা’ পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। জানা গেছে, জিনিয়াস স্পোর্টস যে আর্থিক প্রস্তাব দিয়েছিল, তা ১৫ কোটির চেয়ে অনেক কম ছিল এবং সেখানে ক্লাবগুলির লভ্যাংশের কোনও স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। এই কারণেই ক্লাবগুলি বেঁকে বসেছে এবং সরাসরি ফেডারেশনকে আরও লাভজনক প্রস্তাব দিয়েছে। তবে জিনিয়াস স্পোর্টসকে একেবারে বাদ দিতে নারাজ ক্লাবগুলি, তাদের থেকে প্রতিযোগিতার ডেটা সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে।

ক্ষমতা থাকছে ফেডারেশনের হাতেই, সম্ভাব্য প্রভাব

লিগ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা বললেও ফেডারেশনের সার্বভৌমত্বে কোনও আঘাত হানতে চায় না ক্লাব-জোট। চিঠিতে সাফ জানানো হয়েছে, লিগে রেফারি নিয়োগ ও তা পরিচালনা, লিগের যাবতীয় আইনি বিষয়, অ্যান্টি-ডোপিং নজরদারি এবং ম্যাচ পরিচালনার নিয়মাবলি সব কিছুই থাকবে ফেডারেশনের অধীনে। এছাড়া প্লেয়ার ট্রান্সফার উইন্ডো এবং ফিফা ও এএফসি-র নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিও এআইএফএফ নিয়ন্ত্রণ করবে।

যদি ফেডারেশন এই প্রস্তাবে রাজি হয়, তবে ভারতীয় ফুটবলের পরিকাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসবে। প্রথমত, ফেডারেশনের বার্ষিক আয় একলাফে অনেকটাই বাড়বে, যা ঘরোয়া ফুটবলের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব। দ্বিতীয়ত, লিগ পরিচালনায় ক্লাবগুলির অংশগ্রহণ বাড়লে স্পনসরশিপ ও বিপণনের ক্ষেত্রে আরও পেশাদারিত্ব আসতে পারে। তবে পুরো বিষয়টি এখন নির্ভর করছে ৪ জুনের বৈঠকের ওপর। ফেডারেশন শেষ পর্যন্ত কর্পোরেট সংস্থার হাত ধরবে নাকি নিজেদের ক্লাবগুলির ওপর আস্থা রাখবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *