তোলাবাজির অভিযোগে গড়ফায় গ্রেপ্তার তৃণমূল কাউন্সিলর, ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ধৃত ২

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা তুঙ্গে। একাধিক নেতা ও প্রাক্তন বিধায়কের পর এবার পুলিশের জালে জড়িয়ে পড়ছেন কলকাতার শাসক দলের জনপ্রতিনিধিরা। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় দ্বিতীয় তৃণমূল কাউন্সিলর হিসেবে গ্রেপ্তার হলেন গড়ফার ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর। মঙ্গলবার মধ্যরাতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শচিন সিংহকেও একই অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের কারণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরেই ১০৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় প্রমোটার এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা তোলার অভিযোগ উঠছিল অরিজিৎ দাস ঠাকুরের বিরুদ্ধে। শাসক দলের প্রভাবশালী কাউন্সিলর হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। আবাসন নির্মাণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে ‘কাটমানি’ দাবি করা হতো বলে থানায় সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশি তদন্তে এই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলার পর মঙ্গলবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গড়ফা থানায় তলব করা হয়। দীর্ঘক্ষণ জেরার পর বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় মধ্যরাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
কলকাতায় একের পর এক কাউন্সিলর গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুরপ্রশাসন ও শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। গত ২৩ মে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের গ্রেপ্তারের পর, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই কাউন্সিলরের হাজতবাসের ঘটনা শহরের আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন সাধারণ ব্যবসায়ী ও প্রমোটারদের মধ্যে ভীতি দূর হচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ দমনে পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকা স্পষ্ট হচ্ছে। ধৃত কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুরকে আজ, বুধবার আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।