তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে মাঝরাতে আগুন, জীবনতলায় বরাত জোরে বাঁচল গোটা পরিবার

তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে মাঝরাতে আগুন, জীবনতলায় বরাত জোরে বাঁচল গোটা পরিবার

ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনার খবর সামনে আসছে। এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা থানার অন্তর্গত পিয়ালি এলাকায় এক তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। রাজনৈতিক শত্রুতার জেরে গভীর রাতে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

মাঝরাতে নৃশংস হামলা ও প্রাণ বাঁচানোর লড়াই

তৃণমূল কর্মী সুমন হালদারের অভিযোগ, রাত আনুমানিক দেড়টা নাগাদ অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। সুপরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা প্রথমে বাড়ির প্রধান দরজাটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেয়। এরপর বাড়ির প্রবেশপথে এবং বাইরে থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ঘরের ভেতরে আটকে পড়েন সুমন বাবু ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। শেষ পর্যন্ত পেছনের দরজা দিয়ে কোনো রকমে বের হয়ে এসে তাঁরা প্রাণ বাঁচান।

সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ

ঘটনার খবর পেয়ে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। জানা গেছে, ওই বাড়ির আশেপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় রাতে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির ঘোরাঘুরির দৃশ্য ধরা পড়েছে। সুমন হালদার ইতিমধ্যেই ঘুটিয়ারিশরিফ পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে ঘটনার পর বেশ কিছু সময় পার হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত এই হামলায় জড়িত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রাজনৈতিক বিরোধ ও সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফল ঘোষণার পর থেকেই তাদের দলীয় কর্মীরা লাগাতার রাজনৈতিক হিংসার শিকার হচ্ছেন। দলগতভাবে এই নিয়ে আইনি পদক্ষেপও করা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের ঘটনা গ্রামীণ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। নিছক রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে একটি গোটা পরিবারকে পুড়িয়ে মারার এই চেষ্টা স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রাজনীতিকে আরও উস্কে দিতে পারে, যা আগামী দিনে ওই অঞ্চলের সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড়সড় উদ্বেগের কারণ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *