নবান্নে শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে মমতার ছায়াসঙ্গীরা, তীব্র রাজনৈতিক জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে

রাজ্য রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর অধ্যায়ের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন নেতারা। বুধবার দুপুরে নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত নয়া বিজেপি সরকারের এই প্রশাসনিক বৈঠকে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান ও অশোক দেবের আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা আগেই যাঁরা ধর্নামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন, তাঁদের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক সমীকরণের নাটকীয় বদল
তৃণমূলের অন্দরে যখন তীব্র ভাঙন ও বিদ্রোহ স্পষ্ট, ঠিক তখনই এই ঘটনা ঘটল। একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রায় ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়ক স্বাক্ষর করে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মানতে অস্বীকার করেছেন, ঠিক তার পরেই এই বৈঠক। গত ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী বিধায়কদের উপস্থিত থাকার রেওয়াজ দেখা যায়নি এবং বিজেপির পক্ষ থেকেও অতীতে ডাকা না পাওয়ার অভিযোগ করা হতো। তবে শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় প্রথম থেকেই বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেলেও, কুণাল বা ফিরহাদের মতো কট্টর মমতা-পন্থীদের আগমন এক বড় চমক।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নাটকীয় পটপরিবর্তনের পেছনে একাধিক কারণ ও গভীর প্রভাব থাকতে পারে। দলের চরম সংকটের দিনেও কুণাল ঘোষ দিদির পাশে থাকার বার্তা দিলেও, সরকারি স্তরের এই বৈঠকে যোগ দেওয়া নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে শাসকদল বিজেপির হাত যেমন শক্ত হতে পারে, তেমনই তৃণমূলের অন্দরে থাকা ক্ষমতার ভারসাম্য পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একদিকে বিক্ষুব্ধদের দলত্যাগ এবং অন্যদিকে শীর্ষ নেতৃত্বেরই প্রশাসনিকস্তরে সমন্বয়ের এই চেষ্টা দলটিকে এক গভীর সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বড়সড় পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে।