ট্রাম্পের নয়া ট্যারিফ নীতি, আমেরিকার নিশানায় ভারত ও চিনসহ একাধিক দেশ

বিশ্ব বাণিজ্য বাজারে ফের বড়সড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আমেরিকা তার প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের কাছ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কমপক্ষে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন এই মার্কিন শুল্ক হারের প্রস্তাবে ভারত ও চিনের জন্য আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যেখানে শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূলত জোর করে শ্রম প্রথার বিষয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের বিশেষ তদন্তের পরই এই নয়া কর কাঠামোর প্রস্তাব সামনে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়তি করের বোঝা
ব্লুমবার্গের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত নতুন শুল্ক হার অনুযায়ী ভারত, চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল এবং সুইজারল্যান্ডের মতো দেশ থেকে আমেরিকায় রপ্তানি হওয়া পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। অন্যদিকে, কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান এবং ব্রিটেনের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই শুল্কের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এর আগে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন দেশের ওপর আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক বাতিল করে দিলেও, ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই শুল্কগুলো পুনরায় কার্যকর করার জন্য মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আবহেই নয়া জটিলতা
আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য এক বড় ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে এই শুল্ক পরিকল্পনা সামনে এল, যখন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (ভারত-মার্কিন বিটিএ) চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রধান আলোচকরা নয়াদিল্লিতে ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন দিনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছেন। একদিকে যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক সহজ করার প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখনই আমেরিকার এই নয়া কর চাপানোর কৌশল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ধারা ৩০১ এবং জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) ধারা ৩০১-এর অধীনে পরিচালিত ৬০টি তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করেছেন। এই তদন্তে দেখা গেছে, জোরপূর্বক শ্রমের ওপর ভিত্তি করে তৈরি পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন বা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে না পারা ৫৪টি অর্থনীতির মধ্যে ভারতও রয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যেসব দেশ এই প্রথা নিষিদ্ধ করতে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ওপরেই এই অতিরিক্ত কর চাপানো হবে। এই নীতি কার্যকর হলে বিশ্ব বাজারে ভারতীয় বস্ত্র ও অন্যান্য রপ্তানিজাত পণ্য বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে, যা সামগ্রিকভাবে ভারতের রপ্তানি বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।