সীমান্ত সুরক্ষা ও জনকল্যাণে নবান্নের জোড়া চাল, এবার বদলে যাচ্ছে মা ক্যান্টিনের চেনা রূপ!

রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে গতি আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। একদিকে বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও আউটপোস্ট তৈরির দীর্ঘদিনের জমি জট কাটাতে তৎপর হয়েছে নবান্ন, অন্যদিকে গরিব মানুষের সস্তার খাবার প্রকল্পেও আনা হচ্ছে আমূল পরিবর্তন। বুধবার ক্যাবিনেট ব্রিফিংয়ে এই দ্বিমুখী কৌশলের কথা ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের মন জয়—উভয় দিক বজায় রাখতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সীমান্তের সুরক্ষায় কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়
বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করতে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-কে জমি দেওয়ার কাজ পুরোদমে শুরু করেছে রাজ্য। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে রাজ্য ইতিমধ্যেই ৩১.৯০৫ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে হস্তান্তর করেছে। এছাড়া নতুন আউটপোস্ট বা সীমান্ত চৌকি তৈরির জন্য ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের পক্ষ থেকে আরও ১.৫৩ একর জমি দেওয়া হয়েছে। শুধু সীমান্ত সুরক্ষাই নয়, উত্তরবঙ্গের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবক-রংপো রেলপথ প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য রেলকে আরও ২০ একর জমি দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, কোচবিহারে ২২.৯২৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর, দার্জিলিং-এ ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের মালদহে ১০.৯০ একর, মুর্শিদাবাদে ৩৮.৮০৫ একর, নদিয়ায় ০.৫৫ একর এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২.৬ একর জমি দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই জমি হস্তান্তরের ফলে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ হবে, যা অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে। একই সঙ্গে রেলের জমি মেলায় উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে।
মা ক্যান্টিন এখন ‘মা আহার’, মেনুতেও চমক
সীমান্ত ও রেলের পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক স্কিমে বড় চমক দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা। রাজ্যে এতদিন ধরে চলা গরিবের সস্তার খাবার প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর নাম বদলে এখন থেকে করা হচ্ছে ‘মা আহার’। কেবল নাম পরিবর্তনই নয়, এই প্রকল্পের পরিধিও ব্যাপক আকারে বাড়ানো হচ্ছে।
আগে রাজ্যে ৩৯০টি মা ক্যান্টিন চালু ছিল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আরও নতুন ১১০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যার ফলে রাজ্যে মোট ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০০টি। নতুন রূপের এই প্রকল্পে খাবারের মেনুতেও বড়সড় পুষ্টিকর বদল আনা হচ্ছে। এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন ডিম ও দু’দিন মাছ দেওয়া হবে এবং বাকি দু’দিন থাকবে সম্পূর্ণ নিরামিষ পুষ্টিকর আহার। এই সিদ্ধান্তের ফলে নিম্নবিত্ত মানুষের প্রোটিনের চাহিদা যেমন মিটবে, তেমনই প্রান্তিক স্তরে সরকারের জনপ্রিয়তা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।