তিনদিন দেরি হলেই কাটা যাবে ছুটি, নবান্নে চালু হচ্ছে ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক হাজিরা!

তিনদিন দেরি হলেই কাটা যাবে ছুটি, নবান্নে চালু হচ্ছে ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক হাজিরা!

সরকারি দফতরে কাজের গতি আনা, সময়-নিষ্ঠা বজায় রাখা এবং হাজিরা সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। নবান্নে কর্মরত আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য এবার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে ‘ফেস রেকগনিশন বায়োমেট্রিক’ ব্যবস্থা। সম্প্রতি নবান্নর পক্ষ থেকে এই সংক্রান্ত একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা আগামী ১৫ জুন থেকে কার্যকর হতে চলেছে। প্রাথমিকভাবে নবান্নে শুরু হলেও, আগামী ৩১ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে এই নতুন বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

কড়া নজরদারি এবং ছুটির নতুন নিয়ম

নতুন এই নির্দেশিকায় সরকারি কর্মীদের অফিসে আসা এবং যাওয়ার সময়ের ওপর কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দফতরের প্রধানদের বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত স্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের অফিসে ঢোকার এবং বেরোনোর সময় এই নির্দিষ্ট যন্ত্রের মাধ্যমে উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে হাজিরা দিলে তা ‘দেরিতে আসা’ হিসেবে গণ্য হবে। সকাল ১১টার পর অফিসে এলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত ধরা হবে। একইভাবে, বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরিয়ে গেলে তা ‘আগেভাগে বেরিয়ে যাওয়া’ হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো কর্মী যদি একই দিনে দেরিতে আসেন এবং সময়ের আগে বেরিয়ে যান, তবে তাঁর সেই দিনের ক্যাজুয়াল লিভ বা সিএল কাটা যাবে। অফিস থেকে বেরোনোর সময় হাজিরা নথিভুক্ত না করলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীকে অনুপস্থিত বলে গণ্য করা হবে। এছাড়া, একটি ক্যালেন্ডার মাসে পরপর তিন দিন দেরিতে এলে বা আগেভাগে বেরিয়ে গেলে কর্মীদের একটি করে সিএল কাটা যাবে। তবে বাড়ি দূরে হওয়ার কারণে যাঁরা সদর দফতরের আট কিলোমিটারের মধ্যে থাকতে পারেন না, তাঁদের জন্য পূর্ববর্তী নিয়মের বিশেষ ছাড় আপাতত বহাল থাকছে।

শৃঙ্খলার প্রয়াস ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রশাসনিক স্তরে কর্মসংস্কৃতির উন্নয়ন এবং নিয়মানুবর্তিতা নিশ্চিত করতেই রাজ্য সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার ফলে ফাঁকিবাজি বন্ধ হবে এবং সরকারি কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে। তবে এই নতুন নিয়মের ফলে কর্মীদের মধ্যে দৈনন্দিন যাতায়াত এবং সঠিক সময়ে দফতরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এক ধরনের মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গণপরিবহণের ওপর নির্ভরশীল কর্মীদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। তা সত্ত্বেও, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই ব্যবহার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং সরকারি পরিষেবাকে আরও গতিশীল করতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *