ত্রাণ খুঁজতে গিয়ে মিলল বেআইনি অস্ত্র, কুলতলি ও সন্দেশখালিতে গ্রেফতার ২ দাপুটে তৃণমূল নেতা

ত্রাণ খুঁজতে গিয়ে মিলল বেআইনি অস্ত্র, কুলতলি ও সন্দেশখালিতে গ্রেফতার ২ দাপুটে তৃণমূল নেতা

দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলিতে সরকারি ত্রাণসামগ্রী চুরির অভিযোগে তল্লাশি চালাতে গিয়ে পুলিশ বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এলাকা থেকেও জমি দখল ও হুমকির অভিযোগে আরও এক দাপুটে নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ প্রশাসন। জোড়া নেতার এই গ্রেফতারির ঘটনায় দুই জেলা জুড়েই রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

ত্রাণের খোঁজে তল্লাশি এবং অস্ত্র উদ্ধার

কুলতলী ব্লকের জলাবেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা তথা প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা কার্তিক সর্দারের বাড়িতে মঙ্গলবার রাতে হানা দেয় কুলতলী থানার পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ছিল, প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আসা বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে কার্তিকের বাড়িতে মজুত করে রাখা হতো। দুর্গত মানুষ সাহায্য চাইতে গেলে তাঁদের খালি হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ। গ্রামবাসীদের এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কার্তিকের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়। ঘরের এক কোণ থেকে ত্রাণের পাশাপাশি উদ্ধার হয় বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ। পুলিশ সমস্ত বেআইনি অস্ত্র, গুলি ও ত্রাণসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কার্তিক সর্দারকে গ্রেফতার করেছে। ধৃত নেতা কুলতলী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রূপা সর্দারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বলে জানা গিয়েছে।

সন্দেশখালিতে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার

একই রাতে উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি এলাকা থেকেও সুজয় মণ্ডল ওরফে ‘মাস্টারমশাই’ নামে এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত সুজয় সন্দেশখালির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতোর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ অনুগামী হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মীদের মারধর, খুনের হুমকি এবং সাধারণ চাষীদের উর্বর জমি গায়ের জোরে দখল করার মতো একাধিক মারাত্মক অভিযোগ ছিল। রাজ্যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভুক্তভোগী মানুষজন তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই জোড়া গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় স্তরে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং প্রশাসনের সাম্প্রতিক কড়া অবস্থান। সরকারি ত্রাণ দুর্নীতি এবং জোরপূর্বক জমি দখলের মতো ঘটনার বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পুলিশ এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ঘটনার ফলে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও রাজনৈতিক মহলে দুর্নীতির শিকড় কতটা গভীরে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের পরিধি বাড়াচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির দাবি, এই ঘটনা প্রমাণ করে শাসকদলের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে গিয়েছে। ধৃত দুই নেতাকে যথাক্রমে বারুইপুর ও বসিরহাট মহকুমা আদালতে হাজির করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ। এই ঘটনার প্রভাবে আগামী দিনে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *