রোবটের নিখুঁত ছোঁয়ায় বসল সিরামিকের হাঁটু, পঙ্গুত্ব জয় করে নতুন জীবন পেলেন প্রৌঢ়া!

রোবটের নিখুঁত ছোঁয়ায় বসল সিরামিকের হাঁটু, পঙ্গুত্ব জয় করে নতুন জীবন পেলেন প্রৌঢ়া!

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতির হাত ধরে দেশে জটিল রোগ নিরাময় এখন আরও সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো এক নতুন মাইলফলক। গুরুগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোবোটিক প্রযুক্তির সহায়তায় ৫৪ বছর বয়সি এক প্রৌঢ়ার হাঁটুতে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে অত্যন্ত জটিল ‘সিরামিক টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ বা হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় পঙ্গুত্বকে জয় করে ওই রোগী এখন দ্রুত সুস্থতার পথে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আক্রান্ত ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে ‘অ্যাডভান্সড অস্টিওআর্থ্রাইটিস’ সমস্যায় ভুগছিলেন। অতীতে একবার পড়ে গিয়ে তাঁর হাঁটুর ‘অ্যান্টেরিওর ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট’ (ACL) এবং মেনিস্কাস বা ভেতরের তরুণাস্থি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই পুরোনো আঘাতের কারণে তাঁর হাঁটুর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা তীব্র অস্টিওআর্থ্রাইটিসে রূপ নেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছিল প্রৌঢ়ার অতিরিক্ত ওজন, যা তাঁর ক্ষতিগ্রস্ত হাঁটুতে প্রতিনিয়ত অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছিল।

অস্ত্রোপচারের নেপথ্য কারণ ও জটিলতা

রোগীর তুলনামূলক কম বয়স এবং স্থূলতার কারণে প্রথাগত পদ্ধতিতে এই অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হাসপাতালের রোবোটিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট এবং অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের কনসালট্যান্ট ডাঃ সঞ্জয় কাপুরের নেতৃত্বে এক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়। প্রথাগত ধাতব (Metal) ইমপ্ল্যান্টের পরিবর্তে তাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের ‘সিরামিক হাঁটু ইমপ্ল্যান্ট’ এবং নিখুঁত ফলাফলের জন্য রোবট-অ্যাসিস্টেড সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন। মূলত লিগামেন্টের ক্ষতি এবং ওজনের ভারসাম্যহীনতা দূর করতেই এই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়।

রোবোটিক ও সিরামিক প্রযুক্তির যুগলবন্দি এবং প্রভাব

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ হাঁটু প্রতিস্থাপনে ব্যবহৃত ধাতব ইমপ্ল্যান্ট থেকে অনেক সময় সামান্য পরিমাণে মেটাল আয়ন নিঃসৃত হয়ে শরীরে অ্যালার্জি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। সিরামিক ইমপ্ল্যান্টের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি নেই। এই অপারেশনে রোবটের নিখুঁত পরিমাপের কারণে কৃত্রিম হাঁটুটি হাড়ের সাথে হুবহু মিলে গেছে এবং আশেপাশের নরম টিস্যুর ভারসাম্য বজায় রয়েছে।

এই অস্ত্রোপচারের ফলে কাটাছেঁড়া কম হওয়ায় অপারেশনের পর হাঁটুতে প্রদাহ বা ফোলাভাব অনেক কম হয় এবং রোগী প্রথাগত সার্জারির চেয়ে অনেক দ্রুত নিজের পায়ে ভর দিয়ে হাঁটতে পারছেন। সিরামিক অত্যন্ত মসৃণ ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় এটি সহজে ক্ষয় হবে না এবং রোগী হাঁটু নাড়াচাড়ায় দীর্ঘমেয়াদী আরাম পাবেন। চিকিৎসাক্ষেত্রে রোবোটিক সিরামিক সার্জারির এই সফল প্রয়োগ আগামী দিনে হাঁটু ও জয়েন্টের ব্যথায় ভুগতে থাকা হাজার হাজার জটিল রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *