আইপিএল নয়, দেশের স্বার্থই আগে কামিন্সের

টাকার ঝনঝনানি আর গ্ল্যামারে ঠাসা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগকে (আইপিএল) একপাশে সরিয়ে রেখে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট এবং বিশ্বকাপকে অগ্রাধিকার দিতে চলেছেন প্যাট কামিন্স। ২০২৭ সালের মেগা সূচির ধকল সামলাতে আগামী মরসুমের আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অজি অধিনায়ক। কামিন্সের এই বার্তা ক্রিকেট বিশ্বে ফ্র্যাঞ্চাইজি বনাম দেশের হয়ে খেলার পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিল।
২০২৬ সালের মরসুমেও চোটের কারণে পুরো সময় মাঠে থাকতে পারেননি কামিন্স। মাত্র আটটি ম্যাচ খেলে আটটি উইকেট নিলেও তাঁর ক্ষুরধার নেতৃত্বে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ প্লে-অফে পৌঁছায়। কিন্তু আগামী ১৮ মাসের জাতীয় দলের কঠিন সূচি বিবেচনা করে এবার আইপিএল নিয়ে চূড়ান্ত ও কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে হাঁটছেন এই অজি তারকা।
সামনে টেস্টের পাহাড় ও বিশ্বকাপের ধকল
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের আগামী দেড় বছরের সূচি ক্রিকেটারদের জন্য অত্যন্ত কঠিন এবং ক্লান্তিকর। ২০২৭ সালের শুরুতেই ভারতের মাটিতে চার টেস্টের হাই-ভোল্টেজ সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সেই সফর শেষ করেই মার্চে মেলবোর্নে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ ঐতিহাসিক টেস্টে নামবে তারা। এরপরই শুরু হবে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজ। আর অ্যাশেজের রেশ কাটতে না কাটতেই অক্টোবর-নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে বসবে একদিনের ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর।
চলতি বছরের অগস্ট থেকে ২০২৭ সালের বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়াকে মোট ২১টি টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে। এই ব্যস্ত সূচির কারণেই কামিন্স স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী বছর কোনো না কোনো জায়গায় ধকল কমাতে ছাড় দিতেই হবে, তবে সেটা কোনোভাবেই টেস্ট ম্যাচ বা একদিনের বিশ্বকাপ হবে না।
রোটেশন নীতি ও দূরদর্শী প্রভাব
টানা ক্রিকেটের ধকল এবং চোট-আঘাতের প্রবণতা রুখতে শুধু কামিন্স একাই নন, জশ হেজলউড এবং মিচেল স্টার্কের মতো অভিজ্ঞ পেসারদের ক্ষেত্রেও রোটেশন নীতি ব্যবহার করার ভাবনাচিন্তা করছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের শেষ দিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলারদের আগেভাগে বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে, যাতে অ্যাশেজের আগে শরীর সম্পূর্ণ সতেজ থাকে।
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে আলোচনা করে কামিন্স তাঁর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন। তবে অজি অধিনায়কের এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের ফলে আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে। কারণ নিলামের মোটা অঙ্কের অর্থের চেয়েও দেশের হয়ে লাল বলের ক্রিকেট এবং বিশ্বকাপ জয়কেই নিজের কেরিয়ারের সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন কামিন্স।