কলকাতা ও মুর্শিদাবাদে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি, সোনা পাপ্পু কাণ্ডে উদ্ধার নগদ টাকা ও দুবাইয়ের বিপুল সম্পত্তির নথি

অর্থপাচার মামলার তদন্তে ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল এনফোর্সরমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। সোনা পাপ্পু, প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ডিসিপি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, জয় এস. কামদার এবং তাঁদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চলা মানি लॉन्ड्रিং মামলার তদন্তে কলকাতা ও মুর্শিদাবাদের মোট ১৩টি ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালিয়েছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। গত ২২ মে চালানো এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা ও গয়নার পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে আন্তর্জাতিক স্তরে অর্থপাচারের একাধিক চাঞ্চল্যকর নথি।
ইডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাক্তন পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, মহম্মদ আলি, রুহুল আমিন আলি শাহ এবং অতুল কাটারিয়া সহ এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তির বাড়ি ও সংশ্লিষ্ট অফিসে ওইদিন হানা দেওয়া হয়। তল্লাশি অভিযানে নগদ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ও সোনাদানা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস এবং ভারত ও দুবাইয়ে অবস্থিত বিভিন্ন সম্পত্তিতে বিনিয়োগ সংক্রান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, যা এই অপরাধের জাল কতদূর বিস্তৃত তা প্রমাণে সাহায্য করবে।
বেআইনি সাম্রাজ্যের বিস্তার ও অপরাধের উৎস
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দায়ের করা একাধিক এফআইআরের সূত্র ধরে এই মামলার তদন্তে নামে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, সোনা পাপ্পু এবং তাঁর সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র এবং বেআইনি আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন। বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে তাঁরা বিপুল পরিমাণ কালো টাকা উপার্জন করেন। পরবর্তীতে সেই অর্থকে আইনি রূপ দিতে এবং আসল উৎস আড়াল করতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তসহ দুবাইয়ের রিয়েল এস্টেট মার্কেটে এবং সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়।
এর আগেও গত এপ্রিল মাসে ১, ১৯ এবং ২৬ তারিখে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ও জয় এস. কামদারের কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক ডেরায় দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়েছিল। সেই সময়েও প্রায় ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকা নগদ এবং বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়। ইডি কর্মকর্তাদের মতে, উদ্ধার হওয়া নতুন নথিগুলি থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে, অপরাধলব্ধ অর্থ বিভিন্ন ভুঁইফোড় সংস্থা ও সহযোগীদের মাধ্যমে ঘুরিয়ে অত্যন্ত চতুরতার সাথে বৈধ আয়ের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সংযোগ ও দূরপ্রসারী প্রভাব
কলকাতা ও মুর্শিদাবাদে ইডির এই লাগাতার অভিযানের ফলে রাজ্যে প্রভাবশালী ও প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে যুক্ত অপরাধমূলক চক্রের আর্থিক ভিত্তি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে, বিশেষত দুবাইয়ে সম্পত্তি ক্রয়ের নথি মেলায় এই অর্থপাচার চক্রের শিকড় যে কেবল দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরে বিস্তৃত, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের লেনদেন ও পাচার দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, অর্থপাচারের এই আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে আরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কর্পোরেট সংস্থার জড়িত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া ডিজিটাল ডিভাইস ও নথির সূত্র ধরে ব্যাংকিং লেনদেনের বিস্তারিত খতিয়ান বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। অপরাধের এই জাল দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও বিস্তৃত হওয়ায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হবে বলে ইডি সূত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।