জাভেদ খান থেকে গোলাম রব্বানী, তৃণমূলের অন্দরে কী এমন ঘটল যে বদলে গেল সমীকরণ?

জাভেদ খান থেকে গোলাম রব্বানী, তৃণমূলের অন্দরে কী এমন ঘটল যে বদলে গেল সমীকরণ?

রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি করে বিধানসভায় চরম ভাঙনের মুখে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী পদে রেখেই পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে স্পিকার রথীন বোসের কাছে চিঠি জমা দিয়েছেন ৫৮ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক। বিধানসভার নৌশের আলি কক্ষে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এই পদক্ষেপ শাসকশিবিরে বড়সড় ফাটল স্পষ্ট করে দিয়েছে।

বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের দেওয়া এই চিঠিতে নতুন পরিষদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যেখানে উপ দলনেতা হিসেবে জাভেদ খান, শিউলি সাহা, সন্দীপন সাহা ও সাবিনা ইয়াসমিনের নাম এবং মুখ্য সচেতক হিসেবে আখরুজ্জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর অন্যতম নেতা সন্দীপন সাহার দাবি, বিধানসভায় তৃণমূলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে, যা দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হতে পারে।

সংখ্যালঘু মুখদের গণবিদ্রোহ ও নেতৃত্বের সংকট

এই বিদ্রোহের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো তৃণমূলের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত সংখ্যালঘু শিবিরের একঝাঁক হেভিওয়েট নেতার এই গোষ্ঠীতে শামিল হওয়া। বিক্ষুব্ধ তালিকায় পূর্বতন মন্ত্রিসভার চার জন প্রাক্তন সংখ্যালঘু মন্ত্রী রয়েছেন, যার মধ্যে জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, গোলাম রব্বানী এবং আখেরুজ্জামান অন্যতম। এছাড়া কাজল শেখ, ড. মোশাররফ হোসেন, ইমানি বিশ্বাস, নিয়ামত শেখের মতো দাপুটে ও প্রবীণ সংখ্যালঘু বিধায়করাও এই বিদ্রোহে প্রথম সারিতে রয়েছেন।

বিদ্রোহের কারণ ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্দরে ক্ষমতার অলিন্দে থাকা কিছু নেতার প্রতি ক্ষোভ, মন্ত্রীত্ব ও সাংগঠনিক গুরুত্ব হাতছাড়া হওয়া এবং নীতিগত মতবিরোধের কারণেই এই গণবিদ্রোহের সূত্রপাত। সংখ্যালঘু বিধায়কদের এই স্তরের অসন্তোষ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এক বিরাট ধাক্কা।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলনেত্রী হিসেবে মান্যতা দেওয়া হলেও, সমান্তরাল পরিষদীয় দল গঠনের এই প্রচেষ্টা দলের রাশ আলগা হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একঝাঁক প্রভাবশালী সংখ্যালঘু বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের চেনা ভোটব্যাঙ্কে ধস নামার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের আইনসভা পরিচালনা থেকে শুরু করে সার্বিক রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট ঘটিয়ে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *