তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল আরও স্পষ্ট, শুভেন্দুর বৈঠকে ববি ও কুণালের উপস্থিতি ঘিরে জোর জল্পনা

তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে চলা তীব্র মতবিরোধ ও ক্ষমতার লড়াই এবার প্রকাশ্য প্রশাসনিক মঞ্চে চলে এল। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিলেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার এই পর্যালোচনা বৈঠকে তাঁদের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় স্তরে যে বিভাজন তৈরি হয়েছিল, এই বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যুযুধান দুই শিবির একই মঞ্চে চলে এল। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সদ্য বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা আগেই এই বৈঠকে থাকবেন বলে জানা ছিল, তবে ফিরহাদ-কুণালদের নবান্নে যাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব এবং বিধানসভায় পাল্টা চাল
তৃণমূলের অন্দরে ফাটল কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয়েছে বিধানসভার স্পিকারের কাছে জমা পড়া একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সভানেত্রী ঘোষণা করে ঋতব্রত ও সন্দীপনরা স্পিকারকে চিঠি দিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহার নাম উপদলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেও, দলের ‘বিদ্রোহী’ অংশ সেই সিদ্ধান্ত মানতে অস্বীকার করেছে। এই পরিস্থিতিতে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষার মাঝেই বিধায়কদের নবান্ন যাত্রা দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে আরও বাড়িয়ে দিল। বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দেখানো পথেই এবার ফিরহাদ, কুণাল ও নয়নারা পা বাড়ালেন বলে মনে করা হচ্ছে।
ভরাডুবির পর বিপর্যস্ত সংগঠন ও সম্ভাব্য প্রভাব
নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলীয় ক্ষোভ সামাল দিতে মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে ধর্নায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে ফিরহাদ হাকিম, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় সহ হাতেগোনা কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকলেও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের নবান্নের বৈঠকে যোগ দেওয়া রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ার পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূলের সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটি তৈরি করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাংগঠনিক রদবদল এবং একই সাথে শীর্ষ নেতাদের নবান্ন মুখী হওয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী দিনে দলের রাশ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।