১০টা ১৫ পার হলেই লেট, সরকারি কর্মীদের জন্য নবান্নের নজিরবিহীন কড়া ফতোয়া

রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে নিয়মানুবর্তিতা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একগুচ্ছ নজিরবিহীন কড়া নির্দেশিকা জারি করল সরকার। এবার থেকে সময়ের মধ্যে অফিসে না পৌঁছলে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে সরকারি কর্মচারীদের। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের পর অফিসে ঢুকলে ছুটি কেটে নেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে নবান্নের তরফে। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য সরকারি মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
বায়োমেট্রিক হাজিরা ও কড়া সময়সীমা
নবান্নের পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে সমস্ত সরকারি দফতরে ফেস রিকগনিশন ডিভাইসের মাধ্যমে বায়োমেট্রিক হাজিরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী ১৫ জুন থেকে প্রথম ধাপে নবান্নে এই নিয়ম বলবৎ হবে এবং ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ধাপে ধাপে রাজ্যের বাকি সমস্ত সরকারি অফিসে এই ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু হয়ে যাবে।
নতুন নিয়মে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে ১১টার মধ্যে অফিসে উপস্থিতি নথিভুক্ত হলে তা ‘লেট’ বা দেরিতে আগমন হিসেবে গণ্য হবে। সকাল ১১টার পর অফিসে পৌঁছলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে সম্পূর্ণ ‘অনুপস্থিত’ বলে ধরে নেওয়া হবে। একইভাবে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের আগে অফিস থেকে বেরোলে তা ‘আর্লি ডিপারচার’ হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো কর্মী যদি একই দিনে দেরিতে আসেন এবং সময়ের আগে বেরিয়ে যান, তবে তাঁর সেদিনকার ক্যাজুয়াল লিভ (CL) কেটে নেওয়া হবে। এছাড়া মাসে তিন দিন দেরিতে ঢুকলে বা আগে বেরোলেও একদিনের ছুটি কাটা যাবে। অফিস থেকে বেরোনোর সময় আউট পাঞ্চ না করলেও অনুপস্থিতি হিসেবেই গণ্য করা হবে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সম্ভাব্য প্রভাব
সরকারের এই চরম পদক্ষেপের মূল কারণ হলো সরকারি দফতরগুলির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা এবং উপস্থিতির নথির ডিজিটাল সংরক্ষণ নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিনের ঢিলেঢালা ভাব কাটিয়ে আমজনতার জন্য সরকারি পরিষেবাকে আরও দ্রুত ও দায়বদ্ধ করে তোলাই প্রশাসনের লক্ষ্য। এই বিষয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রত্যেক কর্মচারীকে কাজের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হবে, সময় মতো আসতে হবে এবং সময় মতো যেতে হবে।
এই কঠোর নিয়মের ফলে একদিকে যেমন সরকারি কাজে গতি আসবে এবং লালফিতের ফাঁস কমবে, অন্যদিকে কর্মীদের একাংশের মধ্যে যাতায়াতের সমস্যা ও জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। তবে অফিশিয়াল মিটিং বা বিশেষ কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রধানের অনুমোদনে ছাড় পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে এই নির্দেশিকায়।