সল্টলেকে দীর্ঘদিনের বাড়ি দখল ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে শ্রীঘরে তৃণমূল মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার!

বিশেষ সংবাদদাতা, কলকাতা: সল্টলেকের একটি বাড়ি দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বেআইনিভাবে দখল করে রাখা এবং এক মহিলাকে শ্লীলতাহানি ও ভয় দেখানোর গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার। বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ অভিযোগকারী মহিলার লিখিত বয়ানের ভিত্তিতে বুধবার এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শাসকদলের একজন শীর্ষ স্তরের নেতার এভাবে আকস্মিক গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সল্টলেকের ই-৩৩৭ নম্বর প্লটের একটি আবাসিক বাড়িকে কেন্দ্র করে এই দীর্ঘস্থায়ী বিবাদের সূত্রপাত। অভিযোগ, গত প্রায় দেড় দশক ধরে ওই সম্পত্তির মালিকানা ও দখল নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার এবং সেটিকে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। প্রকৃত বাড়ির মালিক পক্ষ একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠিয়ে সম্পত্তি খালি করার দাবি জানালেও তা লাগাতার উপেক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ। বুধবার বিকেলে জয়প্রকাশ মজুমদার ওই বাড়িতে এসে তালাবদ্ধ দরজা জোরপূর্বক খোলার চেষ্টা করলে বিবাদ চরম আকার ধারণ করে। বাড়ির মালিক তীব্র আপত্তি জানালে দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়।
घटनाর আকস্মিক মোড় ও গুরুতর অভিযোগ
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগকারিনী মহিলার দাবি, জয়প্রকাশ মজুমদার তাঁকে শারীরিকভাবে ধাক্কা দেন, অত্যন্ত অশালীন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এই হেনস্থার প্রতিবাদে সংক্ষুব্ধ মহিলা রাস্তায় নেমে চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশাল ভিড় জমে যায় এবং এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয় পক্ষকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে মহিলা শ্লীলতাহানি, শারীরিক হেনস্থা ও হুমকির সুনির্দিষ্ট ধারা উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারির রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব
এই গ্রেফতারির ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন চাপ তৈরি হতে চলেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নারী নিরাপত্তা ও সম্পত্তি দখলের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে একজন দলীয় মুখপাত্রের নাম জড়ানোয় স্বাভাবিকভাবেই শাসকদলকে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে, যা বিরোধীদের হাতে নতুন political অস্ত্র তুলে দেবে। অন্যদিকে, পুলিশ প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি কড়া বার্তা দিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সম্পত্তি দখলের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি শ্লীলতাহানি ও হুমকির ডিজিটাল ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে, যা আগামী দিনে এই মামলার মোড় সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।