গরমে চড়চড়িয়ে বাড়ছে ডাবের দাম, কলকাতা থেকে দিল্লি কার পকেট কতটা ফাঁকা হচ্ছে

গরমে চড়চড়িয়ে বাড়ছে ডাবের দাম, কলকাতা থেকে দিল্লি কার পকেট কতটা ফাঁকা হচ্ছে

চলতি মরশুমে তীব্র গরমে ওষ্ঠাগত জনজীবন। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে এবং ডিহাইড্রেশনের হাত থেকে বাঁচতে চিকিৎসকরা ডাবের জল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু গরমে স্বস্তি পেতে গিয়ে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছে। কলকাতা থেকে শুরু করে দেশের রাজধানী দিল্লি, সর্বত্রই ডাবের দাম এখন আকাশছোঁয়া। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, দেশের যে রাজ্যগুলিতে সবচেয়ে বেশি নারকেল চাষ হয়, সেখানে ডাবের দাম অনেকটাই কম।

দিল্লি ও কলকাতায় আগুন দাম, দক্ষিণে স্বস্তি

কলকাতার বাজারে এখন একটি ডাবের দাম শুরু হচ্ছে ৭০ টাকা থেকে। আকৃতি ও মানভেদে তা ১০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। দেশের রাজধানী দিল্লির পরিস্থিতি আরও ঊর্ধ্বমুখী। দিল্লিতে রাস্তার ধারে সাধারণত একটি ডাব ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও, অভিজাত এলাকা বা বড় বাজারে এর দাম ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তুলনামূলকভাবে দক্ষিণ ভারতের চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেশের অন্যতম প্রধান নারকেল উৎপাদনকারী রাজ্য কর্নাটকের বেঙ্গালুরু বা মহীশূরের মতো শহরের স্থানীয় বাজারে ডাব মিলছে মাত্র ২৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে তা বড়জোর ৪০ থেকে ৫০ টাকা। অন্যদিকে, ‘নারকেলের দেশ’ হিসেবে পরিচিত কেরলে ডাবের দাম আরও কম। সেখানে মাত্র ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যেই অনায়াসে একটি ডাব পাওয়া যাচ্ছে, গ্রামীণ এলাকায় যা আরও সস্তা।

দামের এই বিশাল পার্থক্যের কারণ ও প্রভাব

উৎপাদনকারী রাজ্যগুলির তুলনায় কলকাতা বা দিল্লিতে ডাবের দাম এতটা বেশি হওয়ার প্রধান কারণ হলো ভৌগোলিক অবস্থান এবং পরিবহন খরচ। দিল্লি বা উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে নারকেল চাষ হয় না। ফলে কর্নাটক, কেরল, তামিলনাড়ু ও অন্ধ্রপ্রদেশের মতো দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি থেকে ট্রাকে করে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এই ফল নিয়ে আসতে হয়।

এই দীর্ঘ যাত্রাপথের জেরে একদিকে যেমন চড়া পরিবহন ভাড়া গুনতে হয়, তেমনই গরমে ডাব নষ্ট হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকে। এর সাথে যুক্ত হয় সংরক্ষণ খরচ এবং স্থানীয় পাইকারি ও খুচরো ব্যবসায়ীদের লভ্যাংশ। সব মিলিয়ে পরিবহনের প্রতিটি স্তরে খরচ যুক্ত হওয়ায় দূরবর্তী রাজ্যগুলিতে ডাবের দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। সুস্থ থাকার প্রাকৃতিক উপায়টি অগ্নিমূল্য হয়ে ওঠায়, অনেকেই ডাব কেনা কমিয়ে কৃত্রিম বা রাসায়নিক পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *