কলকাতায় ব্যাপক পতন সোনা ও রুপোর দামে, মধ্যবিত্তের মুখে হাসি
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/03/gold-price-drop-india-3-january-2026-city-wise-rates-2026-01-03-12-42-56.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
বিশ্ববাজারের রেশ ধরে ভারতীয় বাজারেও ফের বড়সড় পতন ঘটল সোনা ও রুপোর দামে। বুধবার মাল্টি-কমোডিটি এক্সচেঞ্জ (MCX) এবং ঘরোয়া বাজারে দুই মূল্যবান ধাতুর দামই বেশ খানিকটা হ্রাস পেয়েছে। রুপোর ফিউচার প্রাইস এক ধাক্কায় প্রায় ২,০০০ টাকা কমেছে, যার ফলে সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১ কেজি রুপোর দর এখন প্রায় ১.৯২ লক্ষ টাকা নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে লক্ষাধিক টাকার গণ্ডিতে থাকা সোনার দামেও দেখা গেছে বড় পতন।
হু হু করে কমছে রুপোর দর
এমসিএক্স (MCX) সূচক অনুযায়ী, ৩ জুলাই মেয়াদপূর্তির রুপোর দাম প্রতি কেজিতে ১,৯৪৭ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২,৬৪,৭৬০ টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রুপোর দাম রেকর্ড ভেঙে প্রতি কিলোগ্রামে ৪.৫৭ লক্ষ টাকায় পৌঁছেছিল। সেই সর্বোচ্চ স্তর থেকে ধাপে ধাপে কমতে কমতে রুপো এখন কেজি প্রতি ১,৯২,৫৬৮ টাকা সস্তা হয়েছে। কলকাতার খোলা বাজারে আজ প্রতি গ্রাম রুপোর দাম ২৮০ টাকা এবং প্রতি কিলোগ্রাম রুপোর দর ২,৮০,০০০ টাকায় থিতু হয়েছে।
রেকর্ড দর থেকে অনেকটাই সস্তা সোনা
রুপোর পাশাপাশি হলুদ ধাতুর বাজারেও মন্দার গ্রাস বজায় রয়েছে। এমসিএক্স গোল্ড রেট অনুযায়ী, ৫ অগাস্ট মেয়াদোত্তীর্ণের ২৪-ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৮,৭৮০ টাকায় নেমে এসেছে। সর্বকালের সর্বোচ্চ দর ২,০৪,৩৭৫ টাকার তুলনায় সোনা এখন ৪৫,৫৯৫ টাকা কমে মিলছে। দেশীয় বাজারে ইন্ডিয়ান বুলিয়ন জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (IBJA) তথ্য অনুযায়ী, ২৪-ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৫৫,২৬৪ টাকা হয়েছে। আজ কলকাতায় ২২-ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৪,৩২০ টাকা এবং ২৪-ক্যারেট সোনার প্রতি গ্রামের দাম ১৫,৬২২ টাকা রেকর্ড করা হয়েছে।
পতনের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক স্তরে লগ্নিকারীদের মুনাফা তোলার প্রবণতা এবং বিশ্ববাজারের বাণিজ্যিক ওঠানামার কারণেই ভারতের বাজারে সোনা ও রুপোর মূল্যে এই ধারাবাহিক পতন দেখা যাচ্ছে। বিয়ের মরশুম ও উৎসবের আবহে মহার্ঘ্য ধাতুর এই দরপতন সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের স্বস্তি দেবে। গয়না কেনার চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি খুচরো বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এই দামের সঙ্গে মেকিং চার্জ এবং জিএসটি যুক্ত হওয়ার কারণে চূড়ান্ত গয়না কেনার সময় মূল্যের কিছুটা তারতম্য ঘটবে।