বিধানসভায় ঋতব্রতর নেতৃত্বে তৃণমূলের নতুন ব্লক, স্পিকারের সিলমোহরে বদলে গেল সমীকরণ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অলিন্দে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে প্রধান বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী বিধায়কদের এই অংশটিকেই তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) মূল ধারা হিসেবে মান্যতা দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার। এই সিদ্ধান্তের পরেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরের চাবি ঋতব্রতের হাতে তুলে দেওয়া হয়, যার ফলে বিধানসভার ভেতরে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড়সড় বদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই বিধানসভার বিরোধী দলের ঘরটি নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল চলছিল। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা কুণাল ঘোষের মতো নেতারা এই নিয়ে বারবার ক্ষোভ উগরে দিচ্ছিলেন। অবশেষে স্পিকারের সবুজ সংকেত মিলতেই অনুগামী বিধায়কদের সঙ্গে নিয়ে সেই ঘরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত। বর্তমানে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে এই নতুন ব্লকটিই বিধানসভার প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আরও দুজন বিধায়ক খুব দ্রুতই এই শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন।
নতুন পদের বিন্যাস ও রণকৌশল
নতুন এই পরিষদীয় দলে পদের ক্ষেত্রেও বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। বিধানসভায় দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ করা হয়েছে বিধায়ক আখরুজ্জামানকে। পাশাপাশি দলের ডেপুটি লিডার বা উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চারজনকে— জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা। দায়িত্ব পাওয়ার পরেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা শুধু বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবেন না। রাজ্য সরকারের ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোকে যেমন তাঁরা সমর্থন জানাবেন, তেমনই জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে বিধানসভার ভেতরে চোখে চোখ রেখে লড়াই চালাবেন।
তৃণমূলের অন্দরে সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই নতুন রাজনৈতিক নাটকীয়তার পেছনে রয়েছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূলের একাংশ ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করলেও, বিধানসভার সিংহভাগ বিধায়ক ঋতব্রতর পাশেই দাঁড়িয়েছেন। বিধায়কদের দাবি, কালীঘাটের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি, এমনকি রেজোলিউশনে সই জালের মতো ঘটনাও ঘটেছে।
এই নতুন ব্লকটি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। ঋতব্রতর স্পষ্ট বক্তব্য, চলতি বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূর-দূরান্তের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে এই বিদ্রোহের মাঝেও তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে পেতে চান এবং তাঁর নেতৃত্বেই পথ চলতে আগ্রহী। স্পিকারের এই মান্যতা দেওয়ার ফলে তৃণমূলের প্রাতিষ্ঠানিক ভাঙন আরও স্পষ্ট হলো, যা আগামী দিনে রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতি এবং শাসক-বিরোধী সমীকরণকে এক নতুন ও জটিল মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিল।