বিদ্যুৎ বিল মেটানোর নামে অভিনব প্রতারণা, এক ক্লিকেই সর্বস্ব খোয়ালেন কলেজ শিক্ষিকা

বিদ্যুৎ বিল মেটানোর নামে অভিনব প্রতারণা, এক ক্লিকেই সর্বস্ব খোয়ালেন কলেজ শিক্ষিকা

ডিজিটাল দুনিয়ায় পা বাড়ালেই ওত পেতে রয়েছে বিপদ। সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে এক ক্লিকেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সাফ করে দিচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। এবার বিদ্যুৎ বিলের নামে পাঠানো একটি ভুয়ো পিডিএফ ফাইল খোলার মাশুল দিতে হলো উত্তর ২৪ পরগনার এক কলেজ শিক্ষিকাকে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়ে গেল লক্ষাধিক টাকা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গাইঘাটা থানার ঠাকুরনগর এলাকায়। প্রতারণার শিকার ওই শিক্ষিকা ইতিমধ্যেই বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।

ফাঁদ ছিল একটি পিডিএফ ফাইলে

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত শিক্ষিকার নাম নন্দিনী হালদার। তিনি হাবরার বাণীপুর মহিলা কলেজের অধ্যাপিকা। সম্প্রতি তাঁর মোবাইলে একটি অজ্ঞাতপরিচয় নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে দাবি করা হয়, বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পিডিএফ ফাইল পাঠানো হয়েছে, যা তাঁকে অবিলম্বে খুলে দেখতে হবে। বিদ্যুৎ বিলের বিষয় হওয়ায় বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে ওই লিঙ্কে ক্লিক করে ফাইলটি খোলেন অধ্যাপিকা। আর তাতেই ঘটে চরম বিপর্যয়। ফাইলটি খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর স্মার্টফোনের স্ক্রিনটি সম্পূর্ণ কালো হয়ে যায় এবং সেটটি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।

দুই দফায় উধাও লক্ষাধিক টাকা

ফোনের এই আকস্মিক বিকলতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই শিক্ষিকা। বেশ কিছু সময় পর তাঁর মেয়ে ফোনটি পুনরায় চালু করতে সক্ষম হলে আসল সত্য সামনে আসে। দেখা যায়, ফোন অকেজো থাকার সুযোগে তাঁদের স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে দুই দফায় মোট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি তাঁরা ব্যাঙ্কে যোগাযোগ করলে নিশ্চিত হন যে তাঁরা সাইবার প্রতারকদের কবলে পড়েছেন। এর পরেই বনগাঁ সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন শিক্ষিকা। কোন নম্বর থেকে ফোন এবং ফাইল পাঠানো হয়েছিল, তা ট্র্যাক করে অপরাধীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের প্রতারণায় অপরাধীরা সাধারণত ‘মেলওয়্যার’ বা ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যুক্ত ফাইল ব্যবহার করে। ব্যবহারকারী ফাইলে ক্লিক করা মাত্রই ফোনের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চলে যায় হ্যাকারদের হাতে, যার ফলে ওটিপি বা ব্যাঙ্কিং পাসওয়ার্ডের মতো গোপন তথ্য সহজেই চুরি হয়ে যায়। এই ঘটনার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনলাইন লেনদেন ও ডিজিটাল পরিষেবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়বে। বিদ্যুৎ বিল বা জরুরি পরিষেবার নাম ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের বিভ্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *