১২০ ফুটের পরিত্যক্ত জলাধারে মর্মান্তিক পরিণতি, বেলগাছিয়ায় প্রাণ গেল কিশোরের

১২০ ফুটের পরিত্যক্ত জলাধারে মর্মান্তিক পরিণতি, বেলগাছিয়ায় প্রাণ গেল কিশোরের

হাওড়ার বেলগাছিয়া ড্রেনেজ পাম্পিং স্টেশনের পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত পরিকাঠামো কেড়ে নিল এক তরতাজা কিশোরের প্রাণ। বুধবার সকালে বেলগাছিয়া ভাগাড় এলাকার এক ভূগর্ভস্থ জলাধারে পা পিছলে তলিয়ে মৃত্যু হল ১৫ বছর বয়সী অভিষেক রাও নামের এক কিশোরের। প্রায় ১২০ ফুট গভীর ওই জলাধারে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর বিকেল নাগাদ তার মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও পরিত্যক্ত সরকারি সম্পত্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

উদ্ধারকাজে নামানো হল ১০ ডুবুরি

বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ভাই বিশালের সাথে বেলগাছিয়া ভাগাড়ের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই পা পিছলে ওই গভীর জলাধারে পড়ে যায় অভিষেক। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া সিটি পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। জলাধারের গভীরতা এবং ভেতরে থাকা অতিরিক্ত পাঁক ও জলের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় নিয়ে আসা হয় বিশেষ পাম্প। একদিকে পাম্প দিয়ে জল ও পাঁক তোলার কাজ চলতে থাকে, অন্যদিকে প্রায় ১০ জন ডুবুরিকে নামিয়ে চালানো হয় রুদ্ধশ্বাস তল্লাশি। অবশেষে সমস্ত প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে বিকেলে অভিষেকের নিথর দেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা।

পরিত্যক্ত পরিকাঠামো ও সুরক্ষার অভাব

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেএমডিএ-র এই পুরোনো পাম্পিং স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরেই সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ধস নামার পর থেকে হাওড়া পুরসভার অধীনস্থ এই স্টেশনটি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জনবসতিপূর্ণ এলাকার এত কাছাকাছি এমন একটি গভীর ও বিপজ্জনক জলাধার থাকা সত্ত্বেও সেটিকে ঘিরে কোনো উপযুক্ত বেষ্টনী বা সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে এই ধরনের পরিত্যক্ত পরিকাঠামো অবিন্যস্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় দিনের পর দিন দুর্ঘটনা ও প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছিল, যার চরম মাশুল দিতে হলো এক কিশোরকে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সংস্কারের আশ্বাস

এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ প্রিয়ার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে উদ্ধারকাজ দ্রুত করার অনুরোধ জানান। এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকপ্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি পরিকাঠামোগত ত্রুটির কথা স্বীকার করে নেন। বিধায়ক জানান, এই বেলগাছিয়া ভাগাড়কে নতুন করে সুন্দর ও সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দ্রুত এই পাম্পিং স্টেশনটির সংস্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য এলাকাটিতে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *