অন্নপূর্ণা ভান্ডারের টাকা কি সবাই পাবেন, ‘শুভলগ্নে’ বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
.jpeg.webp?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
রাজ্যের মহিলাদের জন্য অত্যন্ত খুশির খবর। বুধবার নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে আজ থেকেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা ঢুকতে শুরু করবে। নবান্নের সভাঘরে এই মেগা প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কারা এই আর্থিক সুবিধা পাবেন এবং কারা এর আওতা থেকে বাদ পড়ছেন। এই ঘোষণার পরেই রাজ্যজুড়ে অন্নপূর্ণা ভান্ডার প্রকল্প নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটেছে।
ভুয়ো আবেদনকারী ছাঁটাই ও কড়া নজরদারি
প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রাথমিক পর্যালোচনার পর লক্ষ লক্ষ ভুয়ো আবেদনকারীর নাম সামনে এসেছে। ফলে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করতে ‘ডুপ্লিকেট’ নামগুলি সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে পুরো অ্যাকাউন্টস অডিট করা হচ্ছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, প্রথমে সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের কথা ভাবা হলেও, ভুয়ো নামের ভিড় এড়াতেই নতুন করে ফর্ম পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই উদ্দেশ্যে গত ২৭ তারিখ থেকে ফর্ম দেওয়া শুরু হয়েছিল এবং বুধবার থেকে অনলাইনেও ফর্ম ফিলাপ শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম পূরণে সাহায্য করা হবে।
টাকা পাওয়ার আসল শর্ত ও সম্ভাব্য প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, মোট ২৯ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্কিমের এই টাকা ঢুকবে। তবে এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতীয় নাগরিকত্ব থাকা বাধ্যতামূলক। এসআইআর (SIR) রিপোর্টের পর দেখা গিয়েছে বহু আবেদনকারী এ দেশের বাসিন্দা নন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, সিএএ (CAA)-র মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তি বা বাংলাদেশ থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসা মানুষজন এই সুবিধা পেলেও, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা কোনোভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না।
১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণ নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের জবাবে প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ডেটাবেস তৈরির জন্যই এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আগামী তিন মাস ধরে এই ফর্ম পূরণ ও ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়াটি চলবে। যেমন যেমন আবেদনপত্র জমা পড়বে, সেগুলি যাচাই করে ধাপে ধাপে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। সরকারের এই কঠোর ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন প্রকৃত দুস্থ মহিলারা আর্থিক সহায়তার সুফল পাবেন, অন্যদিকে সরকারি তহবিলের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে।