ভেঙে তছনছ তৃণমূল, পদ হারালেন অভিষেকও? অবলুপ্ত সব সাংগঠনিক পদ

ভেঙে তছনছ তৃণমূল, পদ হারালেন অভিষেকও? অবলুপ্ত সব সাংগঠনিক পদ

ভোট শেষ হওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় অভূতপূর্ব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। এক ধাক্কায় ভেঙে দেওয়া হলো তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত কমিটি। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে রাজ্য ও জেলা স্তরের সমস্ত নেতার সাংগঠনিক পদের অবলুপ্তি ঘটানো হয়েছে। দল ভাগ হওয়ার গুঞ্জনের মাঝেই রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদলের এই চরম পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

গণসংগঠনগুলিতেও বড় ধাক্কা

তৃণমূলের মূল সংগঠনের পাশাপাশি দলের সবকটি ফ্রন্টাল অর্গানাইজেশন বা গণসংগঠনকেও পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদ, যুব কংগ্রেস, মহিলা কংগ্রেস এবং ট্রেড ইউনিয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলির রাজ্য থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত সমস্ত সভাপতি, সম্পাদক ও অন্যান্য পদাধিকারীদের পদ একযোগে অবলুপ্ত করা হয়েছে। এর ফলে বর্তমানে সাধারণ সদস্য পদ ছাড়া দলের হেভিওয়েট নেতাদের আর কোনো সাংগঠনিক অস্তিত্ব রইল না। তবে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অল ইন্ডিয়া চেয়ারপার্সন পদের ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়ে এখনও সম্পূর্ণ ধোঁয়াশা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরে ক্ষমতার হাতবদল, আনুগত্যের রদবদল এবং দল ভাঙনের পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব পদ রদবদল করে নতুন করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলের অন্দরে থাকা ক্ষোভ প্রশমন এবং বিশ্বস্ত অনুগামীদের পুনর্বাসন দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ক্ষণস্থায়ীভাবে তৃণমূলের জেলা ও রাজ্য স্তরের দৈনন্দিন দলীয় কার্যকলাপে বড়সড় শূন্যতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে নতুন কমিটিতে কারা জায়গা পাবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং স্নায়ুযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে নতুন করে সাংগঠনিক নির্বাচন ও কমিটি গঠনের মাধ্যমে দল নিজের রাশ কতটা শক্ত করতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *