মমতার চেয়ারে বসতে সাফ মানা ঋতব্রতর, বিধানসভায় নাটকীয় সূচনায় ‘আসল তৃণমূল’

মমতার চেয়ারে বসতে সাফ মানা ঋতব্রতর, বিধানসভায় নাটকীয় সূচনায় ‘আসল তৃণমূল’

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন প্রত্যক্ষ করল রাজ্য রাজনীতি। রাজ্য বিধানসভার সচিবের সম্মতিতে ৫৮ জন বিদ্রোহী বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘরে প্রবেশ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সেখানে বসার জন্য নির্দিষ্ট চেয়ারটি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, এ কথা জানতে পেরেই সপাটে লাফিয়ে ওঠেন তিনি। মমতার চেয়ারে বসতে সাফ অনীহা প্রকাশ করে তিনি প্রাক্তন সিপিএম নেতা সূর্যকান্ত মিশ্রের ব্যবহৃত চেয়ারটি আনার অনুরোধ জানান। শেষ পর্যন্ত সেই চেয়ার না পাওয়া গেলেও তাঁর জন্য বিকল্প আসনের ব্যবস্থা করা হয়, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।

তৃণমূলে ভাঙন ও নতুন সমীকরণ

গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ফাটল ধরেছিল, তা এবার চূড়ান্ত রূপ নিল। ভোটের ঠিক এক মাসের মাথায় তৃণমূলের একটি বড় অংশ ভেঙে তৈরি হলো ‘আসল তৃণমূল’। বিধানসভার পরিষদীয় দলের ‘আসল মালিকানা’ দাবি করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আজ থেকে বিরোধী দল হিসেবে তাঁদের নতুন যাত্রা শুরু হলো। এর ফলে শাসকদল হিসেবে থাকা তৃণমূল রাতারাতি বিধানসভায় বিরোধী আসনের দিকে ঝুঁকে পড়ল, যা রাজ্যের সংসদীয় ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

অভিষেক বনাম মমতা দ্বন্দ্বের প্রভাব

এই রাজনৈতিক ভাঙনের নেপথ্যে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নীতিগত পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, এই নতুন পরিষদীয় দলের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। দল ভাঙলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি নমনীয় সুর বজায় রেখেছেন তিনি। ঋতব্রতর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এই নতুন দলের পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে একদিকে যেমন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল, অন্যদিকে তেমনই আদি তৃণমূলের রাশ ধরে রাখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন করে ঘুঁটি সাজাতে হবে। যদিও আদি তৃণমূলের মনোনীত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন, মানুষ এখনও তৃণমূলনেত্রীর পাশেই আছেন। তবে এই আকস্মিক ভাঙন ও ‘আসল তৃণমূল’ গঠন রাজ্যের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ সমীকরণকে এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *