৭ দিনের মধ্যে অবৈধ নির্মাণের খতিয়ান তলব, হাই কোর্টের নির্দেশে বড়সড় চাপে অভিষেক

কলকাতা পুর এলাকায় অবৈধ নির্মাণ বিতর্কে আরও বড় আইনি বিপাকে পড়লেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। হরিশ মুখার্জি রোড ও কালীঘাট এলাকার বেশ কিছু সম্পত্তি এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্স’ সংস্থার অফিসে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি স্মিতা দাস দে কলকাতা পুরসভাকে (কেএমসি) আগামী ৭ দিনের মধ্যে এই সংক্রান্ত সমস্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের এই পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে চাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
আদালতের কড়া নজর ও পুরসভাকে নির্দেশ
বুধবার বিচারপতি স্মিতা দাস দের এজলাসে মামলাটি শুনানির জন্য উঠলে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অভিষেকের বাড়ি এবং লিপস অ্যান্ড বাউন্সের ঠিক কোন কোন অংশে নকশাবহির্ভূত বিচ্যুতি রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করতে হবে। সম্পত্তির কতখানি অংশ জুড়ে এই অবৈধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেই সমস্ত বিবরণ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে পুরসভাকে পেশ করতে হবে। তবে মামলার পরবর্তী শুনানি চার সপ্তাহ পরে নির্ধারিত হলেও, এই অন্তর্বর্তী সময়ে পুরসভা চাইলে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে আইনানুগ অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে বলেও আদালত তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট করে দিয়েছে।
অভিযোগের উৎস ও সম্ভাব্য প্রভাব
পুরসভা সূত্রে জানা গেছে, ইতিপূর্বেই হরিশ মুখার্জি রোডের ‘শান্তিনিকেতন’, ভবানীপুরের ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ১২১, কালীঘাট রোড এবং ১৮৮-এ হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি সহ ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের ঠিকানায় অবৈধ নির্মাণ সংক্রান্ত নোটিস পাঠানো হয়েছিল। যদিও অভিষেকের পরিবার ২৯-সি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটিকে সম্পূর্ণ বৈধ দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে বর্তমান আইনি জলঘোলা এবং আদালতের এই ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়ার জেরে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে। যদি আগামী এক সপ্তাহে পুরসভার রিপোর্টে বড়সড় বিচ্যুতির প্রমাণ মেলে, তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে সংশ্লিষ্ট মহলে এর বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।