রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়, ঋতব্রত বিরোধী দলনেতা হতেই যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীরা!

রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়, ঋতব্রত বিরোধী দলনেতা হতেই যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীরা!

রাজ্য রাজনীতিতে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশের পর থেকেই দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে ক্ষমতার ভরকেন্দ্র। স্পিকারের হাত ধরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি পেতেই তাঁর রাজনৈতিক গুরুত্ব নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, কেবল বিক্ষুব্ধ শিবিরের ৫৮ জন জয়ী বিধায়কই নন, এখন সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থীদের একাংশও গোপনে ও প্রকাশ্যে ঋতব্রতের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে জাতীয় স্তরের হেভিওয়েট নেতাদের নামও, যা রাজ্যের শাসক শিবিরের অন্দরে নতুন অস্বস্তির জন্ম দিয়েছে।

বিধানসভায় শওকত-ঋতব্রত বৈঠক এবং ক্ষোভের বিস্ফোরণ

এই পালাবদলের আবহে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনাটি ঘটেছে বিধানসভায়। ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা সরাসরি বিধানসভায় গিয়ে ঋতব্রতের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সূত্রের খবর, দলের অন্দরের একাংশের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে শওকত অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে হারানোর জন্য দলীয় স্তরেই চক্রান্ত করা হয়েছিল। ‘নিরাপদ’ আসন ছেড়ে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ভাঙড়ে পাঠানো এবং প্রচারে সহযোগিতা না করার মতো বিস্ফোরক দাবিও করেছেন তিনি। অতীতের বাম ছাত্র রাজনীতির সূত্র ধরে ঋতব্রতও শওকতের সঙ্গে কাজ করার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিনের কোন্দল এবং টিকিট বণ্টন নিয়ে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষই এই দলবদলের আবহাওয়া ও যোগাযোগের মূল কারণ। নির্বাচনে হেরে যাওয়া নেতারা এখন দলে নিজেদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে ঋতব্রতের শক্তিশালী বিরোধী ব্লককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। এই প্রবণতা যদি বজায় থাকে, তবে শাসক দলে বড়সড় ভাঙন দেখা দিতে পারে এবং ঋতব্রতের নেতৃত্বাধীন নতুন শিবিরটি বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তবে ঋতব্রত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে মমতা-অভিষেকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বিধায়ককে তিনি ‘ব্লকলিস্টে’ রেখেছেন, অর্থাৎ সবার জন্য তাঁর দরজা খোলা নেই।

জাতীয় স্তরেও বাড়ছে ঋতব্রতের গ্রহণযোগ্যতা

ঋতব্রতের এই উত্থান শুধু রাজ্য রাজনীতির গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই। সংসদের প্রাক্তন সহকর্মী এবং সর্বভারতীয় স্তরের বহু নেতা তাঁকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠাচ্ছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ নাম কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশের। ব্যক্তিগত সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার এই শুভেচ্ছা বার্তা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটি ভবিষ্যতে নতুন কোনো জাতীয় সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *