দিল্লিতে শুভেন্দু, ঋতব্রতর সাক্ষাৎ, ছাব্বিশের ভোটের পর বড়সড় ভাঙনের মুখে তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। দলনেত্রী নিজে পরাজয় স্বীকার না করলেও দলের অভ্যন্তরে যে বড়সড় ফাটল ধরেছে, তা এবার প্রকাশ্যে চলে এল। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি সংক্ষিপ্ত মোলাকাতের পরই রাজ্য রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় এসেছে। ৬০ জন বিধায়ককে সঙ্গে নিয়ে বিধানসভায় হাজির হয়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত পরিষদীয় দল হাইজ্যাক করেছেন এবং স্পিকারের কাছ থেকে বিরোধী নেতার ঘরের চাবিও বুঝে নিয়েছেন।
বঙ্গভবনের সেই ৪০ সেকেন্ড এবং রাজনৈতিক সমীকরণ
নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল। দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে বিধায়ক ও সাংসদদের অনুপস্থিতি যখন ক্রমাগত বাড়ছিল, ঠিক তখনই গত ২২ মে দিল্লির বঙ্গভবনে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগে বঙ্গভবনে গেলে সেখানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। ঋতব্রতর দাবি অনুযায়ী, মাত্র ৪০ সেকেন্ডের সেই কথোপকথনে শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। আপাতদৃষ্টিতে একে ‘কাকতালীয়’ সাক্ষাৎ বলে দাবি করা হলেও, এর পরেই রাজ্য রাজনীতিতে সমীকরণ দ্রুত বদলে যায়।
তৃণমূলে নেতৃত্বের সংকট ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনার পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জল্পনা তৈরি হলেও, তিনি সরাসরি অন্য দলে না গিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই বড়সড় অভ্যুত্থান ঘটালেন। ৬০ জন বিধায়ককে নিজের পক্ষে টেনে নিয়ে তিনি যেভাবে নিজেকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করলেন, তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি এক বিরাট ধাক্কা। অন্যদিকে, দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর ক্ষোভ এবং দলের নেতাদের দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা তৃণমূলকে এক নজিরবিহীন অস্তিত্বের সংকটে ফেলে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ভাঙনের ফলে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে ও বাইরে তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি আলগা হয়ে যেতে পারে।