কলকাতার গঙ্গায় ভাসবে ওয়াটার মেট্রো, ২২ হাজার কোটির মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে বাংলার উপকূলীয় অর্থনীতি
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2024/04/Underwater-metro.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গের জলপথ পরিবহন ও সামুদ্রিক পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। দেশের ১৮তম শহর হিসেবে এবার কলকাতায় চালু হচ্ছে অত্যাধুনিক ‘ওয়াটার মেট্রো’। বৃহস্পতিবার নবান্নে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের সরাসরি উদ্যোগ ও অর্থায়নে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে, যা রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
অতীতের রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতাবাদের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবার থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘সাগরমালা ফেস ২’-তে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, স্রেফ রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে অতীতে বাংলা উন্নয়নের বিশাল সুযোগ হাতছাড়া করেছে। বর্তমান সরকার আগামী ৫ বছরের জন্য একটি ব্যাপক রূপরেখা তৈরি করছে, যার অধীনে ২২,৭০০ কোটি টাকার একটি বিশাল মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা হচ্ছে।
উপকূলীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে আমূল পরিবর্তন
এই বহুমুখী ও বহু-কোটি টাকার প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য হলো ওড়িশা সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত পশ্চিমবঙ্গের বিশাল উপকূলবর্তী অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক পরিকাঠামোয় আমূল রূপান্তর ঘটানো। এই বিশাল তহবিল মূলত কয়েকটি প্রধান ক্ষেত্রে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হবে। শিল্প ও বাণিজ্যকে চাঙ্গা করতে পণ্যবাহী করিডোর, রাস্তাঘাট এবং অভ্যন্তরীণ জলপথের আধুনিকীকরণ করা হবে।
একই সাথে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার আধুনিক বন্দর (ফিশিং হারবার) এবং কোল্ড স্টোরেজ বা প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হবে। এর ফলে সাগর, কাকদ্বীপ, নামখানা, নয়াচর ও খেজুরির মৎস্যজীবীদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা দূর হবে। সুন্দরবন ও উপকূলবর্তী জেলাগুলির প্রান্তিক অঞ্চলগুলিতে পরিকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
জটিলতা কাটিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ভাঙন রোধ
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার পাশাপাশি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বেশ কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। রাজ্যে জলপথ পরিবহনের আধুনিকীকরণের জন্য ৪৪টি নতুন জেটি তৈরির পরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতায় আটকে ছিল। বর্তমান সরকারের বিশেষ তৎপরতায় ইতিমধ্যেই ৪১টি জেটির জন্য চূড়ান্ত সরকারি অনুমোদন মিলে গিয়েছে এবং খুব দ্রুত এগুলির নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে।
এছাড়াও, এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে হুগলি জেলার বলাগড়ে জলপথ যোগাযোগের উন্নতির পাশাপাশি গঙ্গার তীব্র ভাঙন রোধে অবিলম্বে স্থায়ী পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। কেন্দ্রের সাথে সমন্বয়ের এই নতুন নীতি আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।