শেয়ার বাজারে ১৫ লক্ষ কোটির মহা কেলেঙ্কারি, বিপাকে এলআইসিও

শেয়ার বাজারে ১৫ লক্ষ কোটির মহা কেলেঙ্কারি, বিপাকে এলআইসিও

শেয়ার বাজারে হর্ষদ মেহতা কাণ্ডের স্মৃতি উস্কে দিয়ে এক বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস করল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)। বেঙ্গালুরুর খ্যাতনামা সোনা ও রত্ন প্রস্তুতকারী সংস্থা ‘রাজেশ এক্সপোর্টস’-এর বিরুদ্ধে প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সেবির এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পরই খোদ মোদি সরকারের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন (এলআইসি)-এর নাম এই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার জেরে অভিযুক্ত সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজেশ মেহতাকে শেয়ার বাজারে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ভুয়ো আয়ের আড়ালে বিপুল জালিয়াতি

সেবির বিস্তৃত রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজেশ এক্সপোর্টস ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর ধরে তাদের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাবে ব্যাপক কারচুপি করেছে। সংস্থাটি তাদের বিদেশের সহযোগী সংস্থাগুলোর মাধ্যমে আয় অনেক বাড়িয়ে দেখাত এবং সেই কৃত্রিম বর্ধিত আয়কে পুঁজি করে দেশের বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলত। পাঁচ বছরের আর্থিক রিপোর্টে সংস্থাটি তাদের মোট আয় ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার কোটির বেশি দাবি করলেও, সেবির তদন্তে দেখা গেছে এর প্রায় ৯৭ থেকে ৯৯ শতাংশই সম্পূর্ণ ভুয়ো। ফলে দুর্নীতির আনুমানিক অঙ্ক দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ লক্ষ ১৫ হাজার কোটি টাকা, যা বিশ্বের বহু দেশের জিডিপির চেয়েও বেশি।

এলআইসির কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই মহা কেলেঙ্কারির প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের ওপর। রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা এলআইসি-র প্রায় ১০.৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে এই বিতর্কিত রাজেশ এক্সপোর্টস সংস্থায়। সেবির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বৃহস্পতিবার সকালে শেয়ার বাজারে সংস্থাটির শেয়ারের দর প্রায় ৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। এই পতনের ফলে এলআইসি তথা সাধারণ পলিসিহোল্ডারদের বিনিয়োগ করা কোটি কোটি টাকার ভবিষ্যৎ বড়সড় ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

দেশীয় অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় এই ঘটনা এক বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সরকারের নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে বছরের পর বছর ধরে এত বড় জালিয়াতি চলল এবং কোন যুক্তিতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এলআইসি সেখানে বিপুল বিনিয়োগ করল, তা নিয়ে বিরোধী শিবির থেকে তীব্র প্রশ্ন তোলা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *