মমতার ভরাডুবির পর এবার বেসুরো বাবুল, দলবদলের জল্পনা উসকে দিলেন সাংসদ!

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে, ঠিক তখনই দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিলেন সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। দল থেকে বহিষ্কৃত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নব্য তৃণমূলের আত্মপ্রকাশ এবং রাজ্য রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোণঠাসা হয়ে পড়ার আবহে বাবুলের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘ এক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে তিনি একদিকে নেত্রীর অতীত ভুলের সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন দলত্যাগীদের একাংশের বিরুদ্ধেও।
মমতার নীতি নিয়ে প্রশ্ন এবং আখের গোছানোর রাজনীতি
নিজের পোস্টে বাবুল লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর যারা দুর্নীতি ও সরকারি তহবিল তছরুপের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে বড় ভুল করেছিলেন। এখন সেই সব নেতারাই দল ছেড়ে অন্য শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে দল ভাঙনের এই খেলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরোক্ষে কটাক্ষ করলেও বাবুলের নিজস্ব অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনীতিতে ‘প্রেম ও যুদ্ধ’-এর নীতি টেনে এনে তিনি সব ধরনের কৌশলকেই ন্যায্য বলে দাবি করেছেন, যা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও রাজনৈতিক সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে বাংলার বর্তমান ক্ষমতা বদলের হাওয়া। ২০২৬ সালের নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলতেই বাবুল সুপ্রিয় পুনরায় পুরনো শিবির বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা শুরু করেছেন বলে বিশেষ সূত্রে খবর। এর আগে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে আসা এবং একাধিকবার জনপ্রতিনিধি হওয়া বাবুলের এই ভোলবদল আসলে ক্ষমতা ধরে রাখার মরিয়া চেষ্টা। তৃণমূলের এই চরম সংকটের দিনে বাবুলের মতো হেভিওয়েট নেতার এমন দূরত্ব বজায় রাখার নীতি শাসক দলের ভাঙন প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে, যা রাজ্যের আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।