১৮ বছর পর এল নিয়োগপত্র, সরকারি চাকরির স্বপ্ন যখন এক করুন পরিহাস

কেরলের মলপ্পুরমের বাসিন্দা আব্দুল মজিদের জীবনে সরকারি চাকরি পাওয়ার আনন্দ এক চরম পরিহাসে পরিণত হয়েছে। ২০০৫ সালে কেরল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (কেপিএসসি) অধীনে পার্ট টাইম জুনিয়র শিক্ষক পদের পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েও দীর্ঘ ১৮ বছর পর নিয়োগপত্র হাতে পেলেন তিনি। বর্তমানে ৬১ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আইনি বয়সসীমা তথা অবসরের বয়স পার হয়ে গেছে। ২০০৮ সালেই এই নিয়োগ তালিকার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও সম্প্রতি তাঁর বাড়িতে ডাকযোগে পৌঁছায় বহু আকাঙ্ক্ষিত সেই অফার লেটার।
দীর্ঘসূত্রতার কারণ ও প্রশাসনিক উদাসীনতা
এই নজিরবিহীন বিলম্বের পেছনে মূলত সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার লাল ফিতের ফাঁস ও চরম প্রশাসনিক উদাসীনতাকে দায়ী করা হচ্ছে। ২০০৫ সালে পরীক্ষা এবং মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার পর অজানা কারণে আব্দুল মজিদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকে। পরবর্তীকালে শূন্যপদ পূরণ বা মেধা তালিকার হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে শিক্ষা দফতর ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল স্পষ্ট। নিয়মতান্ত্রিক জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সংশ্লিষ্ট পদটি শূন্যই থেকে যায়, অথচ যোগ্য প্রার্থীকে সময়মতো তলব করা হয়নি।
চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই ঘটনা সরকারি কর্মসংস্থান ব্যবস্থার ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতাকে আমজনতার সামনে নেতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন মেধা তালিকায় থাকা যোগ্য প্রার্থীরা চরম হতাশায় ভুগছেন, অন্যদিকে সরকারি ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস পাচ্ছে। সময়মতো শূন্যপদ পূরণ না হওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পঠনপাঠন ব্যাহত হয়েছে দীর্ঘ দেড় দশক। যুবসমাজের কর্মসংস্থানের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এই দীর্ঘসূত্রতা ভবিষ্যতে পিএসসির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাল।